
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরমান উদ্দিন সিদ্দিকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার আদালত। গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক আনিছুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বক্কর।
তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকা অবতরণ করেন ৩৬ বছর বয়সী আরমান উদ্দিন সিদ্দিক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের প্রতিরোধ দল তাঁকে নজরদারিতে রাখে। ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করে ব্যাগেজ বেল্ট-২ এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাঁর পায়ুপথে সাদা স্কচটেপে মোড়ানো ডিম্বাকৃতির তিনটি প্যাকেট পাওয়া যায়, যার ভেতরে লুকানো ছিল ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণের পেস্ট। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি প্যাকেটে ৪৩০ গ্রাম করে মোট ১ হাজার ২৯০ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করা হয়, যা পরিশোধন করলে প্রায় এক কেজি খাটি সোনা পাওয়া সম্ভব। ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শেষ করে ব্যাগেজ বেল্ট-২ এলাকায় পৌঁছালে সন্দেহের ভিত্তিতে তাঁর দেহ তল্লাশি করা হয়।
এই ঘটনায় কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এইচ এম মামুন কায়সার বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং ২০২৩ সালের কাস্টমস আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালতকে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, আরমান দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশ থেকে অবৈধভাবে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই চোরাচালান চক্রের মূল হোতা, অর্থের জোগানদাতা এবং পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তাঁদের গ্রেপ্তারে আসামিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। আদালতের নির্দেশে এখন পুলিশ আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
