
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ও আশ্রবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মিলন (৫০) এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক উপজেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন মণ্ডল (২৮)। এর মধ্যে নূর মোহাম্মদ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। পুলিশের কাছ থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার সন্ধ্যায়। সে সময় ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে একটি ফুটবল ম্যাচ চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রায়বাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্র ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের উপজেলা যুগ্ম সম্পাদক রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীনকে (৩০) আটক করে। তাকে হাতকড়া পরিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থানায় নেওয়ার সময় সরিষা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় পুলিশের ওপর হামলার পাশাপাশি অটোরিকশাটি ভাঙচুর করা হয় এবং এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ‘রঙতরঙ্গ’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে ফুটবল খেলা দেখতে যান রিয়াজুল।
ঘটনার পরদিন ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে, হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওয়াসীম মিয়া (২৬) ও এমদাদুল হক (৪৫) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্যমতে, ধৃতদের মধ্যে ওই দুইজন ছাড়া বাকিদের রাজনৈতিক পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁরা হলেন ঈশ্বরগঞ্জের বৈরাটি গ্রামের মো. ওয়াসীম মিয়া (২৬) এবং সরিষা (গাংপাড়) এলাকার মো. এমদাদুল হক (৪৫)।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন জানিয়েছেন, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পদ ভাঙচুর ও পুলিশি হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযুক্ত সবাইকে আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। পুলিশি হেফাজতে এই ধরনের হামলার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং পুরো বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।
