
বুধবার রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিন ব্যতিক্রমী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাজের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা আলতাফ হোসেন, নায়লা শারাফ ও রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের জীবনসংগ্রাম ও বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের এই প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, দেশ গঠনে এ ধরনের মানুষের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁদের এই ভূমিকা অন্যদেরও ভালো কাজে উৎসাহিত করবে।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করা মো. আলতাফ হোসেনের গল্পটি সবার জন্য অনুপ্রেরণাদায়ী। জন্ম থেকে দুই হাত না থাকলেও তিনি পা দিয়ে লিখে পড়াশোনা শেষ করেছেন। ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং ১০ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। পা দিয়েই বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব ও লেখালেখির কাজ পরিচালনা করেন আলতাফ হোসেন। তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তির কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী তার বিদ্যালয়টির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের বিশেষ আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই প্রতিবন্ধকতা তাঁকে দমাতে পারেনি। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে পা দিয়ে লেখা শেখেন তিনি।
তালিকায় থাকা বুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা নায়লা শারাফের যাত্রাটিও চমকপ্রদ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনতা ব্যাংকে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও, ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও তিনি সরকারি চাকরি গ্রহণ করেননি। শিশুদের শিক্ষাদানের মহান ব্রত নিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন শিক্ষকতা পেশা। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদানে তিনি শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে বিশেষ অবদান রাখছেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।
অন্যদিকে, ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল প্রায় তিন দশক ধরে নিরলসভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি তিনি পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন। সেই নার্সারির চারা নিজ অর্থ ও শ্রমে বিভিন্ন সড়কের পাশে রোপণ করেন। তাঁর লাগানো হাজার হাজার গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে। তিনজনের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের মতো মানুষ এগিয়ে এলে দেশ গঠনের কাজ অনেক সহজতর হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনজনই। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন।
