
প্রার্থী বদলাবে না আওয়ামী লীগ
ফলে ক্ষোভ বাড়ছে তৃণমূলে, বিদ্রোহী হচ্ছেন হাজারের ওপরে, ‘রাজাকার’ অভিযোগের স্তূপ এখন আওয়ামী লীগ অফিসে :কাদের
ধনাগোদা বার্তা ডেস্ক ঃ তৃতীয় ধাপের আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বদল করবে না আওয়ামী লীগ। তৃণমূলের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। তৃণমূল থেকে আসা দুই শতাধিক অভিযোগ গত দুই দিন ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। প্রাথমিকভাবে ১৬ প্রার্থী বদল করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে অধিকতর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত বিতর্কিত প্রার্থীদের বদল না করায় দলটির তৃণমূলে ক্ষোভ বাড়ছে। কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পেয়ে অনেকে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ নানা প্রতিবাদমূলক কর্মসূচি পালন করছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন অনেকে। আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় ধাপের ৮৪৬ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাত শতাধিক। আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন হাজারেরও বেশি। বিদ্রোহী হলে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারিও আমলে নিচ্ছেন না অনেকে।
জানা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের মতো তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ মনোনীত অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের নেতারা কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তৃণমূল নেতারা দল মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই নৌকার মনোনয়ন পেয়ে গেছেন স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সন্তান, বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা নব্য আওয়ামী লীগাররা। এছাড়া হত্যা মামলার আসামি, ভূমিদস্যু, ভিজিএফের চাল চোর, সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারী, চাঁদাবাজি, হত্যা ও নারী নির্যাতন মামলার আসামিরাও পেয়েছেন নৌকার মনোনয়ন। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই এখন একে অপরের দিকে ‘রাজাকার’-এর তকমা লাগানোর চেষ্টা করছেন। এসব অভিযোগের স্তূপ হয়ে গেছে পার্টি অফিসে। বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেল এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টিকে ‘দুর্বিষহ’ আখ্যায়িত করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যার সঙ্গে তার বনবে না, তাকে বলবে রাজাকারের ছেলে। অথবা বলবে রাজাকারের নাতি বা শান্তি কমিটির সদস্য ছিল তারা। এসব অভিযোগ করে একজন আরেক জনের প্রতিপক্ষকে (আওয়ামী লীগের এক মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশীকে) ঘায়েল করছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে না থাকলেও আওয়ামী লীগের যেন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকে সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছেন দলের হাইকমান্ড। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ-বিক্ষোভ যা-ই থাকুক সবাইকে নৌকার পক্ষে কাজ করতেও নির্দেশনা দিয়েছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড। এরমধ্যে ৮৯টি ইউপিতে প্রার্থিতা উন্মুক্ত রেখেছে আওয়ামী লীগ। প্রথম ধাপের ৮টি ও দ্বিতীয় ধাপের ৮১ ইউপিতে নৌকার কোনো প্রার্থী নেই। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই ৮৯ ইউপিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা।
