শিরোনাম
ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে ওয়াকআউট করল বাংলাদেশ পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে এবি পার্টির প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও তদন্তের বাসযোগ্য দেশ গড়তে দায়িত্বের বাইরে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া ডাকসুর প্রচেষ্টায় সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায় যাওয়া ফোন ফেরত পেলেন সৌদির বিমানবন্দরে বিধিনিষেধ: ১০৩ ফ্লাইটে বিপাকে ১৫ হাজার যাত্রী ইরানে জিবিইউ-৪৩ বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে মার্কিন বাহিনী স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসকের অর্জিত জ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো জরুরি পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ শিশুসহ নিহত ২৯
  • প্রচ্ছদ
  • প্রবাস
  • বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া
  • বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে পুনরায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর মোট ৩৩৮টি সরকারি ও বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর জন্য তালিকাভুক্ত করতে একমত হয়েছে মালয়েশিয়া। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ আবেদনে সাড়া দিয়ে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা জিরো কস্টে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ। মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়ার আইন, নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড ও বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের প্রতি সম্মান রেখে বাংলাদেশের বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এই অভিবাসন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে। নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একমাত্র সরকারি এজেন্সি বোয়েসেল (বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড), ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি এবং আরও ৩১২টি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিসহ সর্বমোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছে। কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় সুরক্ষায় গুরুত্ব।

    মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মেনে যোগ্যতার ভিত্তিতেই এজেন্সিগুলোকে যুক্ত করা হচ্ছে। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এজেন্সির সচ্ছলতা ও সক্ষমতা যাচাই শুরু হয়। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মালয়েশিয়া শর্ত কিছুটা শিথিল করলে বৈধ কাগজপত্রসহ ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্য থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া এগোল। নতুন সেন্টার যুক্ত হলে তা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও তালিকা ঘোষণা করা হবে। একপর্যায়ে বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কিছু শর্তে নমনীয়তা দেখায় মালয়েশিয়া।

    বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই ঝিমিয়ে পড়া ও বন্ধ বৈদেশিক শ্রমবাজারগুলো চালুদানে উদ্যোগী হয়। এর অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়া সফরকালে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়, যা নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে মূল ভূমিকা রেখেছে।

    নতুন এই ব্যবস্থায় অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সরাসরি মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে চাকুরির চাহিদাপত্র বা জব অর্ডার সংগ্রহ করতে পারবে। দেশে কর্মী বাছাই, নির্বাচন এবং স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়াও তারা নিজেরাই সম্পন্ন করবে। অপরদিকে বোয়েসেলসহ অনুমোদিত ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সি কেবল ই-ভিসা, কলিং ভিসা ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা ত্বরান্বিত করতে কারিগরি সহায়তা দেবে। এ কারণে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

    মালয়েশিয়া প্রান্তের প্রসেসিং শেষ হওয়ার পর রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো তাদের নিজস্ব লাইসেন্স ব্যবহার করেই জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র গ্রহণ করতে পারবে। এই কাজের সুবিধার্থে বোয়েসেল ও অন্য প্রসেসিং এজেন্সিগুলো প্রদেয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেবে, যাতে মূল এজেন্সির ব্যবসায়িক স্বাধীনতা ও পূর্ণ জবাবদিহিতা বজায় থাকে।

    সরকার স্পষ্ট করেছে যে, কর্মী পাঠাতে অভিবাসন খরচ যথাসম্ভব কম রাখা হবে, যাতে অভিবাসীদের ওপর কোনো অন্যায্য আর্থিক চাপ না সৃষ্টি হয়। সাশ্রয়ী, সুরক্ষিত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে এজেন্সিগুলোকে কঠোরভাবে দেশীয় আইন ও নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মীরা যাতে সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কাজের সুযোগ পান, সে লক্ষ্যেই নিয়োগব্যবস্থা পরিচালিত হবে।

    কর্মী নিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজও চলছে। দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে এই তালিকা প্রস্তুতের বিধান রয়েছে। অতীতে অনিয়ম ও ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকা বিতর্কিত চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে বাদ দিয়ে বর্তমানে মালয়েশিয়ার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে থাকা অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে আপাতত প্রাথমিক কাজ চলবে।

    অচিরেই মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র मंत्रालয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টারগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। এরপর নতুন নীতিমালার আলোকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে। অনিয়ম রোধে দেশীয় কর্তৃপক্ষও সেন্টারগুলোর ওপর নজরদারি রাখবে এবং কোনো ব্যত্যয় ঘটলে আইনি ব্যবস্থা ও লাইসেন্স বাতিল করা হবে। পাশাপাশি নতুন যুক্ত হওয়া সেন্টারগুলোর নামও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    কোনো একক মেডিকেল সেন্টারকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হবে না বলে মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে। মালয়েশিয়া যাওয়ার ইচ্ছুক কর্মীরা যেন প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে যেকোনো অনুমোদিত কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নথি প্রস্তুতের কাজ শেষ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। শ্রম সহযোগিতার এই পরিবর্তনকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অগ্রগতি নিশ্চিত করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোসহ মালয়েশিয়া সরকার ও তাদের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়কে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে অভিবাসন মন্ত্রণালয়।

    আরও পড়ুন

    জনগণের প্রত্যাশা পূরণই জনপ্রতিনিধিদের মূল দায়িত্ব: জি কে গউছ
    রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল: প্রবাসীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটের ঘোষণা
    কাতারে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি: ১০ দিন বন্ধ সাকুরা সুপারমার্কেট
    বন্ধুর প্রেমিকাকে বিয়ে করতে নিজের বন্ধুকেই হত্যা
    বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ৭১ সদস্য বিশিষ্ঠ কুয়েত শাখা কমিটির অনুমোদন
    ইন্দোনেশিয়ার সাবমেরিনটির ৫৩ জন নাবিকের সবাই মারা গেছেন
    সন্তানের মনের খবর জানতে বন্ধু হবেন যেভাবে