
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের বিশেষ উদ্যোগ ও সমন্বয়ে চুরি হয়ে যাওয়া স্মার্টফোন ফেরত পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার ডাকসু সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের হাতে উদ্ধার করা ফোনগুলো তুলে দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
ডাকসু সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত মুঠোফোন দীর্ঘদিন আগে চুরি হয়ে গিয়েছিল। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদককে জানালে তিনি রাঙামাটির ১৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সাহায্য নেন। পুলিশের দীর্ঘ অনুসন্ধান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে মুঠোফোনগুলো উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মালিকানা যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলো হস্তান্তর করা হয়। ডাকসুর কাজ নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অনেকে সমালোচনা করে বলতে চান—এটা কি ডাকসুর কাজ।
স্মার্টফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পদে পদে বাধা দিয়ে আমাদেরকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করেছে। সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের ছোটখাটো সমস্যা থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের সামগ্রিক সংকট—সব কিছুতেই ডাকসু নিরলসভাবে পাশে থাকছে। আর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা মেটাতে যা যা করা দরকার, আমরা ঠিক তা-ই করার চেষ্টা করছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের এমন ভোগান্তি নিরসনে আমরা সরাসরি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছি।’।
সমালোচকদের জবাব দিয়ে ডাকসু ভিপি আরও বলেন, অনেকেই প্রশ্ন তোলেন এগুলো ডাকসুর কাজ কি না। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং সংকট সমাধান করাই ডাকসুর মূল কাজ। উদ্ধার হওয়া ফোন হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখের আনন্দই আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ জানান, অনেক শিক্ষার্থী কষ্ট করে টিউশনির টাকায় ফোন কেনেন। তবে চুরি বা ছিনতাই হলে থানায় জিডি করলেও অনেক সময় অগ্রগতি পাওয়া যায় না। এ জন্য দায়িত্ব নেওয়ার পরই সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ে ফোনগুলো ট্র্যাক ও উদ্ধারে সহায়তার জন্য ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির অধিনায়ক রেজাউল করিমসহ সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি। রিজওয়ান মানসুরীর সঞ্চালনায় এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আহমেদ শাকিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
