
দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি পালনের আগেই গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে। সেই আশঙ্কার মধ্যেই শুক্রবার দুপুরে তাঁর বাসভবনে উপস্থিত হয় দিল্লি পুলিশ। ঝান্ডেওয়ালায় দিপকের আবাসে প্রবেশ করে একদল পুরুষ ও নারী পুলিশ সদস্য। পরবর্তীতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ভেতরে ঢুকে তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বন্ধের নোটিশ দেন। আজ শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমে এই সংক্রান্ত ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়েছে। দিল্লির করোলবাগ এলাকার ঝান্ডেওয়ালায় যে বাড়িতে দিপকে উঠেছেন, তা মহারাষ্ট্রের এনসিপি (শারদ পাওয়ার) দলের নেতা ও মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের। দিপকে সেই নোটিশ দেখেছেন, কিন্তু কর্মসূচি বাতিলে রাজি হননি। টি শার্টের ওপর মহাত্মা গান্ধীর ছবি। ভারত, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান। ভারত, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ছবি: এএনআই সেই কাগজে অভিযোগ করা হয়েছে, দিপকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে জনগণকে প্ররোচিত করছেন। তাঁর কাঁধের ওপর একটা জাতীয় পতাকা ফেলা রয়েছে। দিপকে আরও বলেন, ‘তামাশারও সীমা থাকা উচিত। সিজেপির এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মধ্য দিল্লিতে উত্তেজনা চলছে। একটা ভিডিওতে দেখা যায়, রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিংয়ের বাড়ি থেকে কয়েক শ ফুট লম্বা ওই পতাকা মাথায় তুলে বেশ কিছু কর্মী সমর্থক স্লোগান দিতে দিতে রাস্তা দিয়ে এগোচ্ছেন। এখন দেখার, বাড়ি থেকে বেরিয়ে দিপকেরা কনট প্লেসে জাতীয় পতাকা তুলতে পোঁছতে পারেন কি না।
ভারতীয় সংবাদের সূত্রে জানা যায়, দিল্লি পুলিশের ওই দল দিপককে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে না যাওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছে। শুক্রবার বিকেল ৫টায় সেখানে জাতীয় পতাকা তোলার সময়সূচি নির্ধারণ করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তবে পুলিশ আধিকারিকরা জানান, বর্তমানে সমগ্র কনট প্লেসজুড়ে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। ফলে যেকোনো ধরনের বড় জমায়েত বা কর্মসূচি আইনত নিষিদ্ধ। পুলিশ কেবল এই লিখিত নোটিশ পৌঁছে দিয়েই স্থান ত্যাগ করে।
দলটির পক্ষ থেকে পুলিশ ও দিপকের কথোপকথনের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বসার ঘরের সোফায় পুলিশ কর্মকর্তার মুখোমুখি বসে কথা বলতে দেখা যায় দিপককে। তিনি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক কোনো মন্তব্য বা ভিডিওর অস্তিত্ব তারা দেখাতে পারবে না। এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতেও এক সংবাদ সম্মেলনে দিপকে দাবি করেছিলেন, তাঁদের বাড়ি ঘিরে সাদা পোশাকের পুলিশের অনবরত নজরদারি চলছে। শুক্রবার বিকেলের নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁকেসহ দলের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নোটিশ প্রদান করা হলেও, তা উপেক্ষা করার অজুহাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে কি না, সে বিষয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি যেন আইন মেনে শান্তি শৃঙ্খলারক্ষায় সাহায্য করেন। তাতে লেখা হয়েছে, এক পুলিশ কর্তা দিপকেকে বলেন, তিনি যেন বিকেলে তেরঙ্গা যাত্রা বের না করেন। জবাবে দিপকে পুলিশকে বলেন, ‘আমরা কোনো লাউডস্পিকার রাখিনি। ছবিতে দেখা যায়, দিপকের পরনে সাদা টি শার্ট ও নীল ডেনিম। একটাও ভিডিও কি দেখাতে পারবেন যেখানে লোকজনকে আমি হিংসাত্মক হতে প্ররোচিত করছি।
