শিরোনাম
  • প্রচ্ছদ
  • প্রবাস
  • সৌদিতে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধে চরম ভোগান্তিতে প্রবাসীরা
  • সৌদিতে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধে চরম ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

    সৌদি আরবের বিমানবন্দর এলাকায় গত ১০ অক্টোবরের হামলার ঘটনার পর দিন, অর্থাৎ ১১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির সরাসরি ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) হিসাব অনুযায়ী, ১১ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে মোট ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই প্রবাসী শ্রমিক, যার সংখ্যা আনুমানিক প্রায় ১০ হাজার। ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিকল্প পথ ধরে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে তাদের যাতায়াত খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি চাকরির ঝুঁকি ও ভিসা মেয়াদ শেষ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই হিসাবে প্রায় ১০ হাজার কর্মী ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিকল্প উপায়ে কর্মস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করে অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন প্রবাসীরা। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মো. মাসুম বিল্লাহর ভিসার মেয়াদ আগামী ১ নভেম্বর শেষ হবে। ১৬ অক্টোবরের রিয়াদগামী বাতিল ফ্লাইটের বদলে বাধ্য হয়ে জেদ্দাগামী টিকিট নিয়েছেন তিনি, যেখানে জেদ্দা থেকে রিয়াদ পৌঁছাতে তার বাড়তি তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচ হবে। একইভাবে টাঙ্গাইলের মো. আলমগীরের রিয়াদের বিমান বাতিল হওয়ায় মদিনার টিকিট দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে তাকে সড়কপথে দাম্মাম যেতে হবে। অন্যদিকে অতিরিক্ত খরচের ভয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. আলামিন সাময়িকভাবে সৌদি যাত্রা স্থগিত রেখেছেন। আর চুয়াডাঙ্গার রুবেল রানা নিরাপত্তার আশঙ্কায় সৌদি আরব না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও তাঁর টিকিটের ৭৭ হাজার ৯৯৫ টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাসিন্দা মো. মাসুম বিল্লাহ গত ২ সেপ্টেম্বর ছুটিতে দেশে এসেছিলেন।

    প্রবাসীদের এই সংকটে আটকে পড়া কর্মীদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব টিপু সুলতান জানান, মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার কর্মী যাতায়াত করায় কয়েক দিনে ফ্লাইট বাতিলে থমকে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে। তবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কিংবা বায়রা—কারো কাছেই আটকে পড়া প্রবাসীদের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। বায়রার সদস্য শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, দেশে আসা কর্মীদের সঠিক নিবন্ধন বা কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার থাকলে এবং নিয়োগকারী এজেন্সিগুলো থেকে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হলে ক্ষতির তথ্য সহজে জানা যেত।

    পরিসংখ্যানের ঘাটতির বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আটকে পড়া কর্মীদের তালিকা তৈরির জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার কথা জানিয়ে বিষয়ে মন্তব্যে রাজি হননি মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সার্বিকভাবে ফ্লাইট সংকটে প্রবাসীদের পুনর্যাত্রা, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও টিকিটের রিফান্ড না পাওয়ার শঙ্কা দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে।

    আরও পড়ুন

    বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া
    জনগণের প্রত্যাশা পূরণই জনপ্রতিনিধিদের মূল দায়িত্ব: জি কে গউছ
    রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল: প্রবাসীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটের ঘোষণা
    কাতারে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি: ১০ দিন বন্ধ সাকুরা সুপারমার্কেট
    বন্ধুর প্রেমিকাকে বিয়ে করতে নিজের বন্ধুকেই হত্যা
    বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ৭১ সদস্য বিশিষ্ঠ কুয়েত শাখা কমিটির অনুমোদন
    ইন্দোনেশিয়ার সাবমেরিনটির ৫৩ জন নাবিকের সবাই মারা গেছেন
    সন্তানের মনের খবর জানতে বন্ধু হবেন যেভাবে