
আসন্ন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার ধরন নিয়ে রিপাবলিকান দলের ভেতর অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা যখন জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন ট্রাম্প জনগুরুত্বপূর্ণ এসব ইস্যুর বদলে অপ্রাসঙ্গিক নানা বিষয় নিয়ে কথা বলছেন। দলের নেতাদের আশঙ্কা, তার এই অসংলগ্ন প্রচারণার কারণে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে, যা রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী সাফল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দ্য আটলান্টিকের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ট্রাম্পের বার্তা ও ভোটারদের চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য যখন আলোচনার কেন্দ্রে থাকা উচিত, তখন ট্রাম্প ব্যক্তিগত মন্তব্য ও বিতর্কিত বিষয়ে মনোযোগ দিচ্ছেন। গত ২৫ অক্টোবর মিশিগানে আয়োজিত এক সমাবেশে ট্রাম্পের এই আচরণ প্রকাশ্য হয়ে ওঠে। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে ওহাইওর সিনেটর জন হাস্টেডের শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি।
একই সমাবেশে র্যাপশিল্পী নিকি মিনাজ উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প তাকে মঞ্চে ডেকে এনে তার শারীরিক গঠনের প্রশংসায় মেতে ওঠেন, যা নিয়ে সমর্থকদের মাঝে উল্লাস দেখা গেলেও প্রচারণার মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা তৈরি হয়। তবে নিকি মিনাজ ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, তিনি জনগণের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছেন এবং ভবিষ্যতে ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাকেই সমর্থন করবেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের এমন ব্যক্তিগত মন্তব্যের পাশাপাশি আরও কিছু বিচ্ছিন্ন প্রসঙ্গ উঠে আসছে। তিনি হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজ, কৌতুকশিল্পী বিল মাহেরকে ঘিরে বিরোধ এবং তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফার মতো বিষয়ে বক্তব্য রাখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রার্থীর মূল দায়িত্ব হলো ভোটারদের অর্থনৈতিক দুর্দশা ও জীবনযাত্রার উদ্বেগের যৌক্তিক সমাধান তুলে ধরা, কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্যে তার প্রতিফলন নেই বললেই চলে।
আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ৩৩টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে না পারলে পরবর্তীতে কংগ্রেসে ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। রিপাবলিকান নেতাদের মতে, জয় নিশ্চিত করতে শুধু ট্রাম্পের একনিষ্ঠ সমর্থকদের উজ্জীবিত করাই যথেষ্ট নয়; নিরপেক্ষ ও দোদুল্যমান ভোটারদের মন জয় করা অপরিহার্য। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের আগে প্রচারণার কৌশল পরিবর্তন করে অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেয়া হয় কি না।
