
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, রমজানকে সামনে রেখে বাজারে পণ্যের কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা নেই। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক বৈঠকে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি এ কথা স্পষ্ট করেন। সভায় বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ভোজ্য তেল, চিনি, ডাল ও ছোলার মতো আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোর পর্যাপ্ত মজুত পাইপলাইনে রয়েছে, যা বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যথেষ্ট। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই মুহূর্তে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য ও জাহাজভাড়ার ওঠানামা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যবসায়ীদের পণ্য আমদানিতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা আছে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কোনো আমদানিকারক ব্যাংকিং জটিলতায় পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমদানিকারকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ সম্পর্কে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথেও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন দেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সহায়ক হবে।
