
মোঃ আশরাফুল জাহান শাওলিন, মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর):
মুখ মলিন, তবুও স্নিগ্ধ হাসি দিয়ে সহকর্মী ও উপজেলার সকলের কাছ থেকে বিদায় নিলেন ইউএনও ফাহমিদা হক।
মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপজেলা চত্বর থেকে সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন পরবর্তী কর্মস্থল ফেনী জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে।

বিদায় কালে ফাহমিদা হক বলেন, ভালো থাকুক মতলব দক্ষিণ উপজেলার প্রতিটি মানুষ। আমার কর্মজীবনে সেরা সময় পার করে এখান থেকে আমি পেয়েছি আপনাদের অগাধ ভালোবাসা এবং সহায়তা। সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে বদলিজনিত কারণে কোনো জেলায় বা উপজেলায় স্থায়ী হওয়ার সুযোগ নেই প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের। উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় সহকর্মী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অনেক রকমের সহয়তা আমি পেয়েছি। কাজ আদায় করার জন্য হয়তো কারো বিরাগভাজন হয়েছি। অনেক সময় ইতিবাচক আবার কখনো নেতিবাচক ভাবে মানুষকে উপস্থাপন করা হয়। খোলা চোখ দিয়ে সবকিছু দেখা যায় না। চোখের আড়ালেও অনেক কিছু থাকে। তবে নিজের অজান্তেও যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি, কারো প্রতি অন্যায় করে থাকি তাহলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
বিদায়বেলায় উপস্থিত বেশির ভাগ মানুষের চোখেই ছিলো আবেগ এবং কষ্ট। আবেগ থামাতে না পেরে কেঁদে ফেলেন অনেকেই। তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
জানা যায়, ২০১৯ সালের বুধবার (১৩ নভেম্বর) মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেছেন বিসিএস ৩১তম ব্যাচের কর্মকর্তা ফাহমিদা হক।
বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর আগে ফেনী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে মাষ্টার্স পাশ করেন। তিনি কুমিল্লার মনোহর গঞ্জের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, তিনি উপজেলা সকল মানুষকে নিজের আপন মানুষ ভেবে কাজ করেছেনে এবং সেটা সবার চোখেও পড়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে কেবল প্রশংসিত হয়েছেন তা নয়, কখনও সমালোচিতও হয়েছেন তিনি। তবুও মানবতার ক্ষেত্রে চুল পরিমাণ ঘাটতি রাখেননি এই ইউএনও। এর আগে উপজেলার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের সংগঠন ও বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বিদায় সংবর্ধনা জানান ফাহমিদা হককে।
একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার নিজ কর্মগুন এবং দক্ষতায় নিজ কর্মের মধ্যদিয়ে বেঁচে থাকেন ঐ উপজেলার সর্বোস্তরের মানুষের মাঝে। প্রান্তিক মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, তরুণ উদ্যোক্তা, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সহ সাংবাদিক মহলের কাছে তার স্মৃতি রয়ে যায় নিজ কর্মস্থলে। রেখে যান তার নতুন নতুন উদ্ভাবনী, নতুন কিছু কর্মগুন। মতলব দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব ফাহমিদা হক তার কর্মের মধ্য দিয়ে উপজেলার সর্বোস্তরের মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।
কর্মের প্রতি ছিল একাগ্রতা, দায়িত্বের প্রতি ছিলেন নিষ্ঠাবান। তিনি কোন ক্ষমতার দম্ভ দেখাননি, ক্ষেতলালের সাধারণ মানুষের জন্য তার কার্যালয় ছিল উন্মুক্ত, যে কোনো শ্রেণী পেশার মানুষের কথা তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। সাধ্যমত নিয়মের মধ্যে থেকে সমাধানের চেষ্টা করতেন, উপজেলা প্রশাসনে তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জাতীয় দিবসগুলি অত্যন্ত দক্ষতার সহিত পালন করেছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের সহকর্মী কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের হৃদয়ে এক অনন্য উচ্চতায় স্থান করে নিয়েছিলেন।”

সর্বশেষ, করোনা কালীন সময়ে সকলকে সাথে নিয়ে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করে, সরকারি ফান্ড, এনজিও ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সহ ব্যক্তিগত ত্রাণ সমন্বয় করে তা বহু মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। কেভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে সরাসরি দেখভাল করা, কোয়ারেন্টাইন করা, আইসোলেশন করা, তাদের সাথে কথা বলা এবং প্রয়োজনে লকডাউন করার মত সাহসী কাজগুলো সকলকে সাথে নিয়ে অত্যন্ত দক্ষ ভাবে সম্পন্ন করে মতলবকে হেফাজত করেছেন।
অনাবিল, সুখ-শান্তিতে সমৃদ্ধ হোক আপনার পারিবারিক জীবন, আপনি দীর্ঘজীবী হোন, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধিতে পৌঁছে যান কাঙ্খিত গন্তব্যে, এমনটাই চাওয়া মতলব দক্ষিণ উপজেলাবাসীর।
