
বাইরে ২০ রুপি দামের পানির বোতল সিনেমা হলের ভেতরে ৫০ রুপিতে বিক্রির ঘটনায় দীর্ঘ এক দশক পর আইনি জয় পেলেন রজত তিওয়ারি নামের এক গ্রাহক। ঘটনাটির সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর, যখন তিনি বিহারের পাটনার একটি মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন। হলের প্রবেশপথে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং বাইরে থেকে নিজের পানির বোতল ভেতরে নিতে দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে হলের ভেতর থেকে তাকে ৫০ রুপিতে পানি কিনতে হয়, যা ছিল বাজারমূল্যের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি। এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে মামলা করেন। প্রায় এক দশক পরে অবশেষে জয় পেলেন সেই মামলায়। মামলাটির সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৬ সালে।
দীর্ঘ শুনানি শেষে পাটনার ক্রেতা সুরক্ষা আদালত ওই মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ও পানি প্রস্তুতকারী বহুজাতিক সংস্থাকে ৮৫ হাজার রুপি জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী, মানসিক হয়রানির ক্ষতিপূরণ বাবদ রজত তিওয়ারিকে ২৫ হাজার রুপি এবং আইনি খরচ বাবদ ১০ হাজার রুপি প্রদান করতে হবে। এছাড়া বাকি ৫০ হাজার রুপি জরিমানা জমা দিতে হবে রাজ্য ক্রেতা কল্যাণ তহবিলে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রেতা সুরক্ষা আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ব্যক্তিকে ২৫ হাজার রুপি দিতে হবে।
মামলা চলাকালে মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, পণ্যের দাম নির্ধারণে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। একই সঙ্গে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, তারা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই পানির দাম নির্ধারণ করেছিল। তবে ক্রেতা সুরক্ষা আদালত কোনো পক্ষেরই এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, গ্রাহককে বাইরে থেকে পানি নিতে বাধা দেওয়া এবং হলের ভেতরে অতিরিক্ত দামে তা বিক্রি করা ভোক্তা অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই রায়ের মাধ্যমে এক দশকের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল। আদালত দুই সংস্থাকেই দায়ী সাব্যস্ত করেছে, কারণ তারা গ্রাহকের ওপর জোর করে বেশি দামের পণ্য কিনতে বাধ্য করেছে। গ্রাহকের অভিযোগ ছিল, প্রায় আড়াই ঘণ্টার সিনেমার সময় বাইরে থেকে পানি বহন করতে না দেওয়াটি অন্যায় ছিল। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন যে ব্যবসায়িক নিয়ম মেনেই স্বচ্ছতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক, যা এক্ষেত্রে মানা হয়নি।
