
রাজধানীর রায়েরবাজারে কৃষি মার্কেটের কাছে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভাষ্যমতে, বেড়িবাঁধ সড়ক দিয়ে হাজারীবাগের দিকে যাওয়ার সময় ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে একদল ব্যক্তি ভ্যানটিকে ঘিরে ফেলে। হামলাকারীরা প্রথমে গাড়িটি ভাঙচুর করে এবং পরে পেট্রলবোমা ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় গাড়ির চালক আহত হয়েছেন এবং ভেতরে থাকা গ্রাহকদের মূল্যবান পার্সেল ও বিভিন্ন ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠানের জরুরি নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক জয়ন্ত চৌধুরী জানান, তাদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাতে মিরপুর-১১ নম্বরের চলন্তিকা মোড়ে পল্লবী কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হলে একজন কর্মী আহত হন। এর আগে ৩১ অক্টোবর রাতে মেয়র হানিফ উড়ালসড়ক, মৎস্য ভবন ও রায়েরবাগে প্রতিষ্ঠানটির গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়, যেখানে একজন চালক গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এছাড়া গত ২৫ অক্টোবর হাজারীবাগের গুদামে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা ও এক কর্মীর কাছ থেকে মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। একই দিন এক কর্মীকে মারধর করে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এর আগে ২০ অক্টোবর হাজারীবাগে সিকদার মেডিকেল সংলগ্ন মূল কার্যালয়ে লুটপাট হয়। অভিযোগ রয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে হামলাকারীরা জমির ভাড়া দাবি করে প্রতিষ্ঠানটিকে হুমকি দিয়ে আসছে। ওই ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও ল্যাপটপসহ ৩১ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়, যার জেরে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল হালিম জানিয়েছেন, নতুন এই হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। হামলাকারীরা কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা ও ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্র খুলে নিয়ে যায়। কয়েকটি ল্যাপটপ ও ৩১ লাখ টাকার পণ্য লুটের অভিযোগ করে প্রতিষ্ঠানটি। এ ঘটনায় করা মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
