শিরোনাম
সাজেকে আটকে পড়া ৩ হাজার পর্যটককে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী নির্বাচনের পর ইরানে বড় হামলার ছক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাজেকে পর্যটক উদ্ধারে অভিযানে নিরাপত্তা ঘটনায়, আহত সাত স্পেনের টেক্সটাইল মেলায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের ১৮ প্রতিষ্ঠান দুবাইয়ে অবস্থানের প্রতি মিনিটে বোনাস মাইল দিচ্ছে এমিরেটস বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন উৎসবমুখর হবে, আশাবাদ আবু নাসেরের কক্সবাজারে সমুদ্রে গোসলে নেমে প্রাণ গেল চারজনের, নিখোঁজ দুই সাজেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলি: আটকা পড়ল পর্যটকবাহী গাড়ি মানিকগঞ্জে বাস ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই যাত্রীর সাজেকে আবার অবরোধ, মাঝপথে আটকা দুই হাজার পর্যটক
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের কুকীর্তি ফাঁস
  • অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের কুকীর্তি ফাঁস

    অবশেষে ফাঁস হলো পুলিশ হাউজিংয়ে বাড়ি তৈরি করে সেখানে নারী, মদ ও জুয়ার আসর বসিয়ে টাকা উপার্জনে জড়িত এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিতর্কিত পতিত স্বৈরাচারের দোসর অ্যাডিশনাল ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের সকল কুকীর্তি। পুলিশ সদরদপ্তরের রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত অ্যাডিশনাল ডিআইজি (সুপারনিউমারারি) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে সদর দপ্তরের হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। আইজিপি আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আব্দুল্লাহ আল জহিরকে হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হলো এবং এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    অভিযানে ৮৪ জন আটক

    এর আগে গত সোমবার রাজধানীর ভাটারা থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এলাকায় জহিরের বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের একটি দল। অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ নারী ও পুরুষ মিলিয়ে মোট ৮৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষ এবং একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও আছেন। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান মঙ্গলবার বিকেলে শেষ হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ওই পুলিশ কর্মকর্তা বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন এবং সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এসব পার্টির জন্য তারা অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিতেন। ডিবির একটি সূত্র জানায়, বাসাটিতে ডিজে পার্টির নামে মাদকের আসর বসত এবং অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের সংগ্রহ করা হতো। বাড়িটি থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও কনডম জব্দ করা হয়েছে এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের ডিসি ইলিয়াস কবির জানান, এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল এবং এর হোস্ট ও কো-হোস্টের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছিল। আটক কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এমনকি অতিরিক্ত ডিআইজি জহির কো-হোস্টকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবিরও করেছিলেন। তার বাড়িতে মাদকের কারবারের অভিযোগে ডিবির অভিযানের বিষয়ে জানতে তাকে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। অদ্যাবধি উক্ত টাকার বিনিময়ে ১ বিঘা জমিও ক্রয় করা হয়নি।

    জহিরের অতীত ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড

    অ্যাডিশনাল ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির অতিরিক্ত আইজি এডমিন মোখলেছুর রহমানের স্টাফ অফিসার ছিলেন টানা ৪ বছর। মোখলেছুর রহমান ছিলেন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি এবং পুলিশের আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের পালের গোদা। তার স্টাফ অফিসার থাকাকালে জহির নানা অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। পুলিশের আরেক গডফাদার প্রলয় জোয়ারদারের সাথে মিলে তিনি ‘রিমঝিম পুলিশ টাউন’ নামে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলেন। এই প্রকল্পে ২৪ বিসিএসের কর্মকর্তাদের জোরপূর্বক প্লট কিনতে বাধ্য করা হতো এবং যারা কিনতে অস্বীকার করেছেন, তাদের পদোন্নতি আটকে দেওয়া হতো। অলিউর রহমান নামে জহিরের বন্ধুকে দিয়ে কোম্পানি গঠন করে গড়ে তোলা এই আবাসন প্রকল্পে জমি দখল, ফসলী জমি না কিনেই বালু দিয়ে দখল এবং জমি বিক্রেতাদের কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য করার হাজার হাজার অভিযোগ রয়েছে। গাজী গোলাম দস্তগীরের পিএস এমদাদ বিপুল অঙ্কের মাসোয়ারার বিনিময়ে প্রলয়-জহির গংকে সহায়তা করতেন। হাইকোর্ট রিমঝিম পুলিশ টাউনকে চিরতরে অবৈধ ঘোষণা করে সকল জমি পূর্বাবস্থায় ফেরৎ দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও তারা তা মানেননি। প্রতিটি পণ্য পূর্বতন সাপ্লাইয়ারের চেয়ে কমপক্ষে ১৫% বেশি দরে ক্রয় করতে বাধ্য করা হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

    প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে জহির চক্র

    মোখলেছুর রহমানের অবসনের পর জহির আশ্রয় নেন প্রলয় জোয়ারদারের সহযোগী মনিরুল ইসলামের কাছে। স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাবেক প্রধান পলাতক মনিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। অভিযোগ রয়েছে, ইয়াবা পাচারকারীদের নিকট থেকে নিয়মিত মাসোহারা সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল জহিরের। এছাড়া মনিরুলের সহযোগীতায় পিওএইচএস-২ প্রকল্পের ঠিকাদারীও তিনি হাতিয়ে নেন। এই চক্রের সাথে আরও যুক্ত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সাবেক এসপি গোলাম রাসেল এবং সাভার-আশুলিয়ার জুলাই আন্দোলনে গণহত্যা ও লাশ পোড়ানোর হুকুমদাতা আসাদুজ্জামান। এছাড়া ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকও এই দুর্নীতিবাজ চক্রের সাথে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পর ভোল পাল্টে জহির পুনরায় পুলিশ হেড কোয়ার্টারের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের আশ্রয়ে নিজেকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার অনৈতিক বাণিজ্যের খবর ফাঁস হওয়ায় এখন তিনি সদর দপ্তরে সংযুক্ত হলেন। স্থানীয় এলাকাবাসী জহির ও তার চক্রের বিরুদ্ধে বহুবার মানববন্ধন করেও কোনো সুরাহা পাননি। এ চক্রের আরেক দুর্নীতিবাজ সাবেক ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সহায়তায় পিওএইচিএস-২ এর জমি ক্রয়ের চুক্তি করে ২০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রিমঝিম আবাসন কোম্পানী তথা জহির চক্র। পরে সেখানে আর্থিকভাবে কোনো সুযোগ নেই দেখে বদলী হন পোর্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-২ শাখায়।

    আরও পড়ুন

    ের মুখে নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়মের ছড়াছড়ি
    ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান জানতে দেশে প্রথম জরিপ শুরু
    শাহজালালে ব্যাগেজ সেবা বাড়াতে চায় সেলেবি এভিয়েশন
    শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান
    ১লা নভেম্বর থেকে সব খাবার ব্যবসায় লাইসেন্স বাধ্যতামূলক
    দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশের বিমানবন্দরগুলো
    সাড়ে ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল প্রায় আট
    জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী