
শিমুল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
আমি ছকিনা পারভীন আমার স্বামীর নাম শেখ আব্দুল্লাহ গ্রাম বাজারগ্রাম রহিমপুর ইউনিয়ন কুশুলিয় উপজেলা কালিগঞ্জ, জেলা সাতক্ষীরা আমার জীবনের গল্প আমি খুব গরিব পরিবারের একটি মেয়ে।আমার পাঁচ ভাই তিন বোন ,আমি আমার পিতার মেয়েদের ভিতর বড় মেয়ে আর বোনেরা কারন আমার বাবা অবস্থা ভালছিল না তাই আমি এবং আমার বোনেরা বেশি লেখাপড়া শিখতে পারিনি,বড়ো ভাইয়েরা দিন মুজুরী দিয়ে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত কোন রকমে লেখাপড়া শিখাতে সক্ষম হই,তারপর আমাকে বিয়ে দিয়ে দেয়,আমার স্বামী একজন কম্পিউটার প্রশিক্ষক আমাদের একটা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে । তাতে করে শুধু বাড়ির সকলকে নিয়ে সচেতনতার মধ্যে জীবন কেটে যেত,তারপর তারপর চিন্তা আসলো এতে করে আমরা সচেতন হলে হবেনা এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার দরকার। সেই থেকে শুরু করলাম সংগঠন গ্রামে গ্রামে একা একা চলা শুরু করলাম দেখলাম আমার এখন কি করা উচিত ভাবলাম একটা সংগঠন তৈরী করে নিবন্ধন নিবো প্রথমে এলাকার ৩৫জন মহিলা একসভা করলাম সভায় আলোচনা হলো নারীদের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সমাজ উন্নয়নে একান্ত প্রয়োজন। আর্থ সামাজিক উন্নয়নে নারীদের অংশ গ্রহণ বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে অতীব জরুরী ।তাই সমাজ সচেতনতার সৃষ্টির জন্য নারীদের অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে ।আর সে লক্ষ্য পুরণের জন্য“মিশন মহিলা উন্নয়ন সংস্থা ”গঠন করা হলো। আমরা একটা সংগঠন করতে কোথায় যাবো আর কি লাগবে আলোচনায় উঠে আসে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্কর্ার সাথে আলোচনা করলাম পরামর্ দিলেন সেই অনুযায়ী আমরা প্রথমে রেজুলেশন করে কারর্ক্রম শুরু করলাম শুরুর তারিখ ছিলো ১৩-০২-২০১৪ খ্রিঃ সেই থেকে পথচলা তার পর সংগঠনের নাম ঠিক করা হয় মিশন মহিলা উন্নয়ন সংস্থা এই নামে নিবন্ধন এর আবেদন জমা দিলাম মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে নিবন্ধন হয়ে গেলো নিবন্ধন নং জেমবিকা/সাত/১০৯/১৬ তারিখ,১০/০৮/২০১৬ তারপর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তারে যুব সংগঠনের জন্য আবেদন করলাম তারপর যুব সংগঠনের তালিকাভুক্ত প্রত্যয়নপত্র পেলাম তালিকাভুক্ত নং যুউঅ/সাত/২৮২ তারিখ ১২/০১/২০১৭ খ্রিঃ তারপর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তারের স্বীকৃতিপত্র পেলাম স্বীকৃতিপত্র নম্বর যুউঅ/সাত ০০২ তারিখ ৩০/১২/২০১৭ খ্রিঃ চলমান মিশন মহিলা উন্নয়ন সংস্থা, গ্রাম -বাজারগ্রাম রহিমপুর , কালিগঞ্জ ,সাতক্ষীরা । সংস্থা স্থাপনের তারিখ: ১৩/০২/২০১৪ ইং । সংস্থার কার্যক্রম এলাকা : সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী। সংস্থার লক্ষ্য অবহেলিত নারী সমাজকে শোষণ, অশিক্ষা, অস্বাস্থ্য, দারিদ্র ও বেকারত্বের অভিশাপ হতে মুক্ত করে পুরুষের সঙ্গে সমান তালে কাজ করার উপযোগী করে তোলা , যাতে নারী পুরুষের সমঅধিকার সম্পন্ন একটি সূখী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে । সংস্থার উদ্দেশ্য : ইহা একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা হিসাবে কার্য এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে একতা, বিশ্বাস ও মানবতাবোধ জাগাইয়া তুলিতে প্রয়াস চালাবে,দাতা সংস্থা এর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।নিরক্ষতা দুরীকরণের জন্য নৈশবিদ্যালয় স্থাপন করত: সমিতির সদস্যগণ কর্তৃক বয়স্ক শিকার প্রচলন করা এবং ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা ।ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষার জন্য মক্তবের ব্যবস্থা করা।মেধাবী ছাত্র – ছাত্রীদেরকে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা, বাল্যবিবাহ,যৌতুক, অটিজম, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য এবং গ্রাম আদালত বিষয়ে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক উঠান বৈঠক করা।বেকার মহিলাদের জন্য সেলাই, উলবুনন ও বিভিন্ন প্রকার হস্ত কুটির শিল্প যেমন –বাঁশ, বেত ও পাটের কাজে প্রশিক্ষণ দিয়া আত্ননির্ভরশীল করিয়া তুলিতে সাহায্য করা । হাঁস-মুরগী, গবাদী পশু পালন ও শাক সবজির চাষ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া, জনসংখ্যা বিষ্ফোরণ রোধ পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচীর ব্যাপক কার্যকারিতার ব্যাবস্থা করা । প্রাকৃতিক দূর্যোগে মহিলা ও শিশুদের সাহায্য ও পূণবাসনের ব্যবস্থা করা । সর্বস্তরে স্বাস্হ্য সংরক্ষণ তথা মাতৃ মঙ্গল ও শিশু কল্যাণ বিধানের ব্যবস্থা করা ।সরকারী, বেসরকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ ও অনুদান গ্রহণ করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠিকে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা মৎস্য ও গবাদি পশু পালনে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলতে সাহায্য করা ।প্রবীনদের আর্থ সামাজিক বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করা ।বিধাবা ও স্বামী পরিত্যাক্ত মহিলাদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা ও পুণবাসনের ব্যবস্থা করা। ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি ও নারী শ্রমিকের নায্য অধিকার আদায় করা।ত্রাণ বিতরণ করা।
