শিরোনাম
চট্টগ্রামকে নান্দনিক নগরী গড়ার উদ্যোগে শাহাদাত হোসেনের আহ্বান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও জাপান ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি এসআইকে পুরস্কার দিলেন এসপি অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভিসানীতি: বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের করণীয় বিমানবন্দর কাণ্ড: জামিন পেলেন না মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান সাজেকের অবরোধ অব্যাহত: সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের দুই দিনেই কোটি ভিউ পার করল অপূর্ব-নীহার নতুন নাটক আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক অর্থসচিব পদে খায়েরুজ্জামান মজুমদার সৌদি আরব থেকে নিরাপদে ফিরলেন আটকে পড়া ৪০ ওমরাহযাত্রী
  • প্রচ্ছদ
  • চট্টগ্রাম বিভাগ
  • ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি এসআইকে পুরস্কার দিলেন এসপি
  • ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি এসআইকে পুরস্কার দিলেন এসপি

    উখিয়া উপজেলার বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

    অথচ এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মধ্যেই উখিয়া থানায় গিয়ে তাঁর হাতে নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান। এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আত্মসাতের অভিযোগে উখিয়া উপজেলার বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম কিবরিয়াকে নিয়ে যখন তোলপাড় চলছে, ঠিক সেদিনই প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে উখিয়া থানায় গিয়ে তাঁর হাতে নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দিয়েছেন কক্সবাজারের ‘বিতর্কিত’ পুলিশ সুপার। শুধু তাই নয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ঠিক সামনেই মিলেছে ইয়াবার গুদাম। তবে খোরশেদের জানাজা চলাকালেই এক সংবাদ সম্মেলনে তারিনকে নির্দোষ ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান।

    এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন অভিযুক্ত এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইয়াবা আত্মসাতের খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হচ্ছিল এবং বিষয়টি নিয়ে জনমনে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছিল।

    রোববার যখন পুরো জেলায় এই নিয়ে তোলপাড় চলছিল, তখনই পুলিশের প্রচলিত রীতি ভেঙে পুলিশ সুপার সরাসরি থানায় হাজির হয়ে বিতর্কিত কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করেন। সাধারণত পুলিশি মাসিক সভায় ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার দেওয়া হয়, কিন্তু এখানে অভিযোগ প্রকাশের দিনই ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। এতে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পুলিশ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    অভিযোগ রয়েছে, গত ২২ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকা থেকে ছৈয়দুল বশর ওরফে সিসি বশরকে আটক করে এসআই গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি পুলিশ দল। প্রত্যক্ষদর্শী সরওয়ার সিকদারের দাবি, অভিযানে দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হলেও মামলার এজাহারে তা কমিয়ে মাত্র ৫০ হাজার পিস দেখানো হয়। বাকি এক লাখ পিস ইয়াবা প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টাকায় মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু এসআই কিবরিয়াকে বাদী করে দায়ের করা মামলার এজাহারে মাত্র ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দের কথা উল্লেখ করা হয়। সরওয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিকে প্রথমে বালুখালী পুলিশ ফাঁড়িতে এবং পরে উখিয়া থানায় নেওয়া হয়। এরপর বালুখালীর জোড়াব্রিজ এলাকায় ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি কাগজে-কলমে দেখানো হয়। অভিযোগ আছে, ইয়াবা গায়েবকারীকে খুঁজে বের করতেও এসপির কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে দেড় শতাধিক। বিষয়টি পুলিশ সুপারকেও জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর তারিন নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশ এবং তাঁর ব্যাগ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারের কথা জানায়।

    মামলায় সাক্ষী করা দুই ব্যক্তি দেলোয়ার ও সাদ্দাম জানিয়েছেন, অভিযানের বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না এবং সাক্ষী হিসেবে তাঁদের নাম ব্যবহারের বিষয়টি তাঁদের অগোচরে রাখা হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও জব্দতালিকা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করলেই ইয়াবা আত্মসাতের সত্যতা বেরিয়ে আসবে। পুলিশ দাবি করছে, ২২ অক্টোবর ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের জন্যই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারছেন না স্থানীয় সচেতন মহল ও জেলা পুলিশের অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ‘এসপি স্যার যে এমন ভুল করবেন, সেটা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারিনি।

    কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে স্থানীয় নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, জেলায় এসপি সাজেদুর রহমানের যোগদানের পর থেকেই ইয়াবা গুম বা পুলিশের হেফাজত থেকে ইয়াবা গায়েব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে নানা বিতর্কিত ও অপকর্মে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিতর্কিত ভূমিকা।

    উল্লেখ্য, কক্সবাজারে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এসপি সাজেদুর রহমানের বিরুদ্ধে নানামুখী অভিযোগ জমা হয়েছে। বিশেষ করে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতি, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থেকে ইয়াবার গুদাম উদ্ধার এবং সেই অভিযান থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনাও বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। এসব বিষয়ে মন্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

    চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, এসআইকে পুরস্কার প্রদানের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সাত মাসে জেলায় ৯৫টি খুন, ১২৭টি ধর্ষণ ও বিপুল সংখ্যক চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই মামলা বা জিডি না হওয়ায় প্রকৃত অপরাধ চিত্রের প্রতিফলন ঘটছে না বলে স্থানীয়রা মনে করেন। এমনকি দিনদুপুরে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত অর্ধশত যানবাহনে লুটপাট চালানো হয়। এছাড়াও পর্যটন এলাকাসহ জেলায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০টি চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। তবে অনেক ঘটনায় মামলা বা জিডি না হওয়ায় প্রকৃত চিত্র পরিসংখ্যানে উঠে আসছে না।

    আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিয়েও চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। গত বছরের নভেম্বরে বিচারককে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা এবং চলতি বছরের মে মাসে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় পুলিশের ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম হত্যা ও মন্দিরের সেবায়েত নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়েও পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তার চিত্রও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে এক যুবক পিস্তল দেখিয়ে একজন বিচারককে ভয় দেখান বলে জানিয়েছেন জেলা জজ পদমর্যাদার একজন বিচারক। এর মধ্যে গত ২৪ মে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গোলাগুলিতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হন। গত ২৪ মার্চ রাতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম। পরবর্তীতে নিহত খোরশেদের পরিবার পুলিশের তদন্তে অনাস্থা জানালে আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তর করেন।

    সংবাদকর্মী অন্তর দে বিশালসহ একাধিক সাংবাদিক এসপির সমালোচনা করায় হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সবকিছু মিলিয়ে, অভিযোগের সঠিক তদন্ত না করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন এলাকাবাসী এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

    আরও পড়ুন

    চট্টগ্রামকে নান্দনিক নগরী গড়ার উদ্যোগে শাহাদাত হোসেনের আহ্বান
    সাজেকের অবরোধ অব্যাহত: সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি
    চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন
    বাঁশখালীর জলকদরের তীরে কাশফুলের সমারোহে দর্শনার্থীদের ভিড়
    নতুন পিকআপে স্বপ্নযাত্রা, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণের
    সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে পিতা-কন্যাসহ নিহত ২
    চট্টগ্রামে ক্রিয়েটিভ আইটির ভিডিও এডিটিং কোর্সের ব্যাচ সমাপনী
    কক্সবাজারে ফের হোটেলে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন পর্যটকরা