
কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এমন ৩১টি দেশের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ইসরাইলে প্রবেশ বা অবতরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে এয়ার ফ্রান্স। ফরাসি সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। ইসরাইলের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে তেল আবিবের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কোনো কর্মীর ইসরাইলি আকাশসীমায় প্রবেশ বা সেখানে অবতরণ নিষিদ্ধ।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, সৌদি আরব, ব্রুনাই, কলম্বিয়া, কোমোরোস, উত্তর কোরিয়া, কিউবা, জিবুতি, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ইরান, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মালি, মৌরিতানিয়া, নিকারাগুয়া, নাইজার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং ইয়েমেন। যেসব ফরাসি কর্মীর এই দেশগুলোর দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে, তারাও এই বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত হয়েছেন। তবে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা মুসলিম দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরক্কোর কর্মীদের ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি প্রযোজ্য নয়। এয়ার ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ নোট অনুযায়ী, কর্মীদের ইসরাইলি ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের দ্বিতীয় জাতীয়তা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে; এই নির্দেশ না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
গত ১লা অক্টোবর ইসরাইলি পরিবহন মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা জারি করে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে গত ৩০শে সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার কথিত চেষ্টার ঘটনাটি। এই ঘটনার পরপরই পুরো বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করে ইসরাইল। ইসরাইলের চ্যানেল ১৩-এর তথ্যমতে, দেশটির অন্তত একটি বিমান সংস্থা বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার পাইলট ও কেবিন ক্রুর অতীত বৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করছে।
এই জাতীয়তাভিত্তিক বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের কারণে ফ্রান্সে এয়ার ফ্রান্স তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। দেশটির অধিকারকর্মী ও রাজনীতিকদের মতে, এই পদক্ষেপ ফরাসি শ্রম আইন এবং বৈষম্যবিরোধী নীতিমালার পরিপন্থী, যা প্রতিষ্ঠানটিকে বড় ধরনের আইনি সংকটে ফেলতে পারে। তবে এয়ার ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে এর ব্যাখ্যা না দিয়ে জানিয়েছে যে, তাদের গন্তব্যস্থলের নির্ধারিত প্রবেশাধিকারের নিয়মগুলো মানতে তারা বাধ্য।
