
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কক্সবাজার থেকে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে আবারও নিয়মিত জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। পর্যটন মৌসুমের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে তিনটি জাহাজ মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার মৌসুমের প্রথম দিনে ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে এমভি বারো আউলিয়া নিরাপদে সেন্টমার্টিনে পৌঁছায় এবং বিকেলে কক্সবাজার ফিরে আসে। প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা এখানে ঘুরতে আসেন। পর্যটন মৌসুমে অর্জিত আয় দিয়েই তাঁরা সারা বছরের সংসার খরচ জোগাড় করেন। জাহাজটি সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকে রওনা হয়।
শুক্রবার সকালে দ্বিতীয় দিনের যাত্রায় এমভি বারো আউলিয়ার পাশাপাশি এমভি কর্ণফুলী এবং এমভি টেকনাফ জাহাজ দুটিও যুক্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, এই তিন জাহাজে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক রয়েছেন। জানা যায়, দ্বিতীয় দিনে এই ৩ জাহাজে করে সর্বমোট ১৫৫৮ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন।
এর মধ্যে এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন যাত্রী ভ্রমণ করছেন।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে পর্যটকদের নিয়ে জাহাজগুলোর যাত্রা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ৮৩৬ জন যাত্রী নিয়ে প্রথম জাহাজটি নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে যাত্রা শুরু করে। দ্বীপের বাসিন্দারা পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, দ্বীপের মানুষ পুরোপুরি পর্যটননির্ভর। মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকদের আগমন তাদের মাঝে আনন্দের সঞ্চার করেছে। পর্যটকরা যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এতে দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ দেখা দিয়েছে। পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে পেরে তাঁরা উচ্ছ্বসিত। এ সময় দ্বীপে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের মধ্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। আমরা আশা করি, পর্যটকেরা তাঁদের মনের মতো করে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, ৫ নভেম্বর মৌসুমের প্রথম জাহাজটি নিরাপদে সেন্টমার্টিনে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ৬ নভেম্বর আরও দুটি জাহাজসহ মোট তিনটি জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।
ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রশাসন এবার নতুন কিছু নিয়ম নির্ধারণ করেছে। এখন থেকে শুধুমাত্র কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকেই সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল করবে। টেকনাফ বা অন্য কোনো পয়েন্ট থেকে জাহাজ ছাড়ার অনুমতি নেই। এছাড়া দ্বীপে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম কাজল জানান, সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের জন্য একমুখী জাহাজভাড়া সর্বনিম্ন ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ভাড়ার টিকিটের ক্ষেত্রে কেবিন সুবিধা যুক্ত রয়েছে। অনেক পর্যটক আগে থেকেই তাদের থাকার কক্ষ বুকিং দিয়ে রেখেছেন এবং স্থানীয় হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছেন।
