
গ্যাস সংকটের কবলে পড়ে আবারও উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায়। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে কারখানাটিতে সার উৎপাদন পুরোপুরি থমকে গেছে। কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিন কারখানাটিতে সার উৎপাদন বন্ধ থাকলে প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে সারসংকট দেখা দিতে পারে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরবচ্ছিন্নভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের চাপের প্রয়োজন হয়। তবে পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় বাধ্য হয়েই কারখানাটি বন্ধ করতে হয়েছে। উল্লেখ্য, দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটির। উৎপাদন সচল থাকলে এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপন্ন হয়, যার মাধ্যমে কারখানাটি প্রায় ৬০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ থাকলেও প্ল্যান্ট সচল রাখতে প্রতি মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকার গ্যাস বিল সরকারকে গুনতে হয়। এতে উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হয়।
কারখানার ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যান্ত্রিক ত্রুটি ও তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এরপর দীর্ঘ সাত মাস বিরতির পর চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করা হলে উৎপাদন শুরু হয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত, ৭ অক্টোবর বয়লার প্ল্যান্টে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে আবারও উৎপাদন বিঘ্নিত হয়। সেই ত্রুটি সারিয়ে ১৬ দিন পর গত ২৩ অক্টোবর কারখানাটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছিল। কিন্তু গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও কার্যক্রম বন্ধের কবলে পড়ল প্রতিষ্ঠানটি। তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে আবারও কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) আওতাধীন এই কারখানাটি উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলাসহ জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলে সার সরবরাহ করে থাকে। কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব অঞ্চলের সার সরবরাহে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যমুনা সার কারখানা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে আসছে।
