শিরোনাম
সাংবাদিক বাবু বস্তুনিষ্ঠ কাজ করে গেছেন: মেয়র শাহাদাত বকশীগঞ্জে দশানী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে ড্রেজার জব্দ তিন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষের কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের সহায়তায় দেশে ড্রোন তৈরির উদ্যোগ, চিন্তিত ভারত নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের প্রশংসায় পুলিশ কমিশনার বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা নেই, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে কনটেইনারবাহী জাহাজ ডুবি ধানমন্ডিতে নিরাপত্তা ঘটনায়: অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি যুবক আটক, এএসআই শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে ফের ব্যয় ও সময় পাঁচ সপ্তাহে পাঁচ বরেণ্য ব্যক্তির হেনস্থা ও আইনি বিতর্ক
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • চীনের সহায়তায় দেশে ড্রোন তৈরির উদ্যোগ, চিন্তিত ভারত
  • চীনের সহায়তায় দেশে ড্রোন তৈরির উদ্যোগ, চিন্তিত ভারত

    প্রতিরক্ষা খাতে সক্ষমতা বাড়াতে এবং উন্নত প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চীনের সহযোগিতায় নিজস্ব ড্রোন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে ড্রোন তৈরি, সেগুলোর সংযোজন এবং পর্যায়ক্রমে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সরাসরি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে।

    বগুড়া বিমানঘাঁটিতে স্থাপিতব্য এই কারখানায় প্রাথমিকভাবে দুই ধরণের মানববিহীন আকাশযান বা ড্রোন তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—যার মধ্যে মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম ড্রোন এবং খাড়াভাবে ওঠানামায় পারদর্শী ড্রোন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সামরিক গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক কার্যক্রমের মতো কাজেও এগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা অবকাঠামো নির্মাণ ও আধুনিক প্রযুক্তি আমদানির পেছনে ব্যয় হবে। এই অর্থ চারটি অর্থবছরে ধাপে ধাপে পরিশোধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ।

    এই প্রকল্পে সহযোগিতা করছে চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল, যারা মূলত রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ড্রোন প্রযুক্তির মতো সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করে থাকে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশ থেকে সরাসরি অস্ত্র কেনার নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের জন্য। এর আগে থেকেই নৌবাহিনীর সাবমেরিন ও রাডার ব্যবস্থায় চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে, তাই বর্তমান প্রকল্পটি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এক নতুন মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    তবে বাংলাদেশের এই পদক্ষেপের বিষয়ে নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারক মহলে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। ভারতীয় বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সীমান্তে চীনের প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোনের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্প নয়াদিল্লির জন্য একটি উদ্বেগের জায়গা। যদিও এখন পর্যন্ত এই উদ্বেগ বাস্তবে রূপ নেওয়ার কোনো প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্পের প্রকৃত প্রভাব এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ভর করবে বাংলাদেশ কীভাবে ড্রোনের কারিগরি সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে, ব্যবহারের নীতি নির্ধারণ করে এবং সংগৃহীত তথ্যের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তার ওপর। এটি বাংলাদেশের কাছে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়নের একটি বড় সুযোগ হলেও, ভারত-চীন বিদ্যমান সম্পর্কের বাস্তবতায় প্রকল্পটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    আরও পড়ুন

    তিন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষের কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
    নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের প্রশংসায় পুলিশ কমিশনার
    বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা নেই, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
    শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে ফের ব্যয় ও সময়
    পাঁচ সপ্তাহে পাঁচ বরেণ্য ব্যক্তির হেনস্থা ও আইনি বিতর্ক
    ডেঙ্গু মোকাবিলায় পাড়া-মহল্লায় মাইকিং ও খুতবায় সচেতনতার নির্দেশ
    টার্কিশ এয়ারলাইন্সের সেবা প্রচারে গলফহাউসের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই
    নভেম্বরেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের অপেক্ষায় কক্সবাজার বিমানবন্দর