
টাঙ্গাইলের সখীপুরের কচুয়া স্থলচালা এলাকায় মাটি কাটার সময় ১২টি গ্রেনেড সদৃশ ধাতব বস্তু পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ওই এলাকায় বাসিন্দা আশরাফ আলী ও তাঁর ছেলে জমি প্রস্তুত করার সময় মরিচা ধরা দুটি লোহার বাক্সের সন্ধান পান। উদ্ধার হওয়া বাক্সগুলোর গায়ে ‘ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, টাঙ্গাইল’ লেখা রয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দিলে সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। দীর্ঘদিন মাটির নিচে থাকায় ধাতব বস্তুগুলোর ওপরের অংশ বেশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। উদ্ধারকৃত বস্তুগুলো দেখতে গ্রেনেডের মতো হলেও বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা না করা পর্যন্ত সেগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুরাদ হোসেন জানান, বস্তুগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের কোনো এক পর্যায়ে কেউ এগুলো মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস সিকদার জানান, তিনি অনলাইনে গ্রেনেডসদৃশ এসব বস্তুর ছবি ও ভিডিও দেখেছেন। সখীপুরের মতো এলাকায় যুদ্ধের সময়ের গ্রেনেড কীভাবে এল, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে আমি এসবের ছবি ও ভিডিও দেখেছি।
উদ্ধার করা ১২টি বস্তুর রহস্য উন্মোচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, এগুলো সক্রিয় বিস্ফোরক নাকি অকেজো কোনো ধাতব কাঠামো। फिलहाल, সখীপুর থানা পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
