
চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) প্রকল্পটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম। বুধবার (৭ অক্টোবর) কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার এবং সদস্য সচিব ফজলু কবির মিন্টু এক যুক্ত বিবৃতিতে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আগামী ৮ অক্টোবর নির্ধারিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।
নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের নামে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এ ধরনের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শর্তাবলী, পরিচালনার অধিকার, আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি পরিষ্কার না করেই একতরফাভাবে এগিয়ে যাওয়াকে তারা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
কমিটির দাবি, উন্নয়নের নামে জনমতকে পাশ কাটিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া অগ্রহণযোগ্য। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের জনগণের সম্পদ হওয়ায় এর যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকা আবশ্যক। তারা সতর্ক করে বলেন, জনগণের মতামতকে তুচ্ছ করে কোনো চুক্তি সম্পাদিত হলে তা ইতিহাসে একটি ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এটি বৃহত্তর জনঅসন্তোষ ও আন্দোলনের জন্ম দিতে পারে।
বিবৃতিতে অবিলম্বে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া প্রস্তাবিত চুক্তির সকল শর্ত জনসমক্ষে প্রকাশের পাশাপাশি বন্দর ব্যবহারকারী, শ্রমিক প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণের দাবি উত্থাপন করা হয়। জাতীয় স্বার্থ, বন্দরের ওপর রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের আপস মেনে নেওয়া হবে না বলেও তারা স্পষ্ট করে দেন।
পরিশেষে, কমিটি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানায় যে, জনমত উপেক্ষা করে চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে কঠোর গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং এর ফলে সৃষ্ট যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে। বন্দর ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় শ্রমিকসমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান নেতারা।
