
কাতার এয়ারওয়েজ ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এয়ারবাসের নতুন প্রজন্মের এ৩২১এলআর (A321LR) উড়োজাহাজ নিজেদের বহরে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতাসম্পন্ন এই উড়োজাহাজে উন্নতমানের বিজনেস ক্লাস সুবিধা থাকবে, যা সংস্থাটির ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীসেবা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আসনগুলো এক-এক বিন্যাসে স্থাপন করা হবে, যাতে প্রত্যেক যাত্রী সরাসরি চলাচলের সুবিধা পান। নতুন উড়োজাহাজ ও উন্নত আসনব্যবস্থার মাধ্যমে কাতার এয়ারওয়েজ স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের পাশাপাশি দীর্ঘপাল্লার রুটেও যাত্রীদের উন্নত সেবা দেওয়ার সুযোগ পাবে।
বর্তমানে এয়ারবাসের এ৩২১ সিরিজের মোট ৫০টি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজের ঝুলিতে। এর মধ্যে ১০টি এ৩২১এলআর এবং ৪০টি এ৩২১নিও মডেলের উড়োজাহাজ। প্রথম এ৩২১এলআর উড়োজাহাজটি ২০২৬ সাল শেষ হওয়ার আগেই হাতে পাওয়ার আশা করছে সংস্থাটি, এরপর ধারাবাহিকভাবে বাকিগুলো বহরে যুক্ত হবে। এ৩২১এলআর মডেলটি একবার জ্বালানি ভরে প্রায় ৪ হাজার নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। তবে বাতাসের গতি, জ্বালানির মজুত এবং অন্যান্য উড়ান শর্তের ওপর নির্ভর করে এর প্রকৃত উড্ডয়ন সীমা পরিবর্তিত হতে পারে।
এই ক্রয়াদেশের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ২০১১ সালে প্রথম এই অর্ডার দেওয়া হয়েছিল, যা ২০১৭ সালে পুনর্নিশ্চিত ও সম্প্রসারিত হয়। তবে পরবর্তীতে এয়ারবাসের সাথে এ৩৫০ উড়োজাহাজের উৎপাদন ত্রুটি নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা আসে। সেই আইনি বিরোধের জেরেই উড়োজাহাজ হস্তান্তরের সূচি ব্যাহত হয় এবং বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হতে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় লেগেছে।
নতুন এই উড়োজাহাজগুলোর বিজনেস ক্লাসে বিশেষ চমক হিসেবে স্টেলিয়া অ্যারোস্পেসের ‘অপেরা’ আসনব্যবস্থা থাকছে। কাতার এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী হামাদ আলী আল-খাতের জানান, প্রতিটি উড়োজাহাজে ১৬টি বিজনেস ক্লাস আসন থাকবে। ওয়ান-টু-ওয়ান বিন্যাসে তৈরি এই আসনগুলোতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য আলাদা দরজা থাকবে, যা যাত্রীদের সর্বোচ্চ আরাম নিশ্চিত করবে। স্টেলিয়া অ্যারোস্পেসের এই প্রযুক্তি ইতিহাদ, এয়ার ফ্রান্স ও আইটিএ এয়ারওয়েজ ব্যবহার করলেও কাতার এয়ারওয়েজের বিশেষ সংস্করণে যুক্ত হতে যাওয়া ব্যক্তিগত দরজা এটিকে আরও স্বতন্ত্র করে তুলবে। উড়োজাহাজগুলো কোন নির্দিষ্ট রুটে চলাচল করবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
