
ধনাগোদা বার্তা অনলাইন ডেক্স
করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবার মাস্ক নিয়ে ‘কড়া অবস্থানে’ যাচ্ছে সরকার৷ এরইমধ্যে ১১ দফা নির্দেশ জারি করা হয়েছে৷ সারা দেশে আবারো নেমেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৷
স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান বলেন, মাস্ক ব্যবহারে এখন ঢিলেঢালা ভাব এসে গেছে৷ অন্যদিকে করোনা সংক্রমন রেড়েছে এই প্রেক্ষাপটে মাস্ক ব্যবহারে আগের নির্দেশনাগুলোই কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ তিনি জানান, ‘‘আজকেই (মঙ্গলবার) ভ্রাম্যমাণ আদালত নামানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রশাসনকে৷ দেশের সব জেলায়ই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলবে৷ তারা জরিমানাও করবেন ।’’
জেলা প্রশাসকদের ১১ দফা নির্দেশনা জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে৷ এই নির্দেশনার মধ্যে আছে-
১. সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অফিসে আসা সেবাগ্রহীতারা বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার করবেন ৷
২. সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালসহ সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে আসা সেবাগ্রহীতারা আবশ্যিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করবেন৷
৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে৷
৪. শপিংমল, বিপণি বিতান ও দোকানের ক্রেতা-বিক্রেতারা আবশ্যিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করবেন৷
৫. হাট-বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা মাস্ক ব্যবহার করবেন৷ মাস্ক পরা ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতারা কোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করবেন না৷
৬. গণপরিবহনের (সড়ক, নৌ, রেল, আকাশপথ) চালক, চালকের সহকারী ও যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে৷
৭. গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ সব শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে৷
৮. হকার, রিকশা ও ভ্যানচালকসহ সকল পথচারীর মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে৷
৯. হোটেল ও রেস্টুরেন্টে কর্মরত ব্যক্তি এবং জনসমাবেশে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যিক ৷
১০. সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে৷
১১. বাড়িতে করোনা উপসর্গসহ কোনো রোগী থাকলে পরিবারের সুস্থ সদস্যেরা মাস্ক ব্যবহার করবেন৷
এই নির্দেশগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে৷ আর জেলা প্রশাসকদের সার্বিকভাবে মনিটরিং করতে বলা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য সচিব জানান৷
তিনি বলেন, আবার গণপরিবহণে মাস্কের ব্যাপারে সরকারের আদেশ মেনে আমরা কঠোর হচ্ছি৷ বিআরটিএ মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ আমরা তাদের সহায়তা করব৷
বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী পাওয়া যায় গত বছরের ১৮ মার্চ ৷ এপর্যন্ত পাঁচ লাখ ৬০ হাজার ৮৮৭ করোনা আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে৷ মারা গেছেন আট হাজার ৫৯৭ জন৷ ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এখানে ব্যাপক ভিত্তিক টিকা দেয়া শুরু হয়৷
