
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত নিহত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এর পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপন, সড়ক প্রশস্তকরণ ও অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। এরপরই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন জেলা প্রশাসক।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক পারাপার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসন জানায়, এ বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে এবং অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নেও সরকারের বিভিন্ন দপ্তর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বাকি দাবিগুলো বাস্তবায়নেও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকায় দুর্ঘটনাস্থলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় দুর্ঘটনাস্থলে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার (৪ নভেম্বর) থেকে রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপনের কাজ শুরু করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
একই দিনে মহাসড়ক ও রেললাইনের মধ্যবর্তী স্থানে অবৈধ দখল ও পার্কিং উচ্ছেদে যৌথ অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরার নেতৃত্বে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালত কেডিএস ডিপোসহ পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সড়কের দুই পাশের পার্কিং করা যানবাহন সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন এবং কেডিএস কর্তৃপক্ষের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন। অভিযানে অবৈধ পার্কিং ও সড়ক দখলের অভিযোগে ১৫টি মামলায় মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করা হয়।
নিহত আইআইইউসির ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের পরিবারকে বিআরটিএর তহবিলের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আবেদন সাপেক্ষে এ অর্থ হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ির মালিককে শনাক্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ এনে দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সহায়তা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কুমিরা এলাকায় মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী মাইশা প্রাণ হারানোর পাশাপাশি আরও এক শিক্ষার্থী ও একজন পথচারী গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবি তুলে আন্দোলনে নামেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা করা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার ও মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ পারাপারের নিশ্চয়তা। দাবির ধারাবাহিকতায় সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মো. আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত চালকের বিরুদ্ধে ১১ নম্বর মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ দল চালককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছ।
