শিরোনাম
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন খুলনার চুইঝালে বাড়ছে শতকোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ভিয়েতনামের এভিয়েশন খাতের আধুনিকায়নে এয়ারবাসের নতুন দুই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য ট্রাম্পকেই দুষছেন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার খুলনার ১৩৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির স্বাদ, যা ভোলেনি ভিনদেশিরাও সাতক্ষীরায় প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন নারী যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়: যুদ্ধের প্রভাবই কি মূল কারণ? সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে আগারগাঁওয়ে আবারও অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থী প্রাণহানির পর ফুটওভারব্রিজের উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নতুন বাস্তবতার উপযোগী হওয়ার সংকল্প
  • প্রচ্ছদ
  • অর্থনীতি
  • খুলনার ১৩৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির স্বাদ, যা ভোলেনি ভিনদেশিরাও
  • খুলনার ১৩৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির স্বাদ, যা ভোলেনি ভিনদেশিরাও

    ১৮৯০ সালে যাত্রা শুরু করা খুলনার ইন্দ্রমোহন সুইটসের মিষ্টির স্বাদ ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা আজও অটুট রয়েছে।

    খুলনার বড় বাজারের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান ‘ইন্দ্রমোহন সুইটস’ প্রায় ১৩৬ বছর ধরে তার নিজস্ব স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। মানিকগঞ্জের ধূলসরা গ্রামের ইন্দ্রমোহন দে ১৮৯০ সালে তৎকালীন সাহেবের বাজারের হেলাতলা রোডে একটি গোলপাতার ঘরে এই মিষ্টির দোকানটি প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে দোকানটি একই স্থানে থাকলেও আইনি লড়াই শেষে ২০১৯ সালে এটি ১৭ নম্বর হেলাতলা রোডের মসজিদ গলিতে স্থানান্তরিত হয়। দোকানের শুরুর ইতিহাস এবং দীর্ঘদিনের পথচলায় এটি এখন খুলনার এক অনন্য ঐতিহ্যের নাম। সময়ের পরিক্রমায় সেই ঘর দ্বিতল দালানে রূপ নিলেও দীর্ঘ ১৮ বছর আইনি লড়াই শেষে ২০১৯ সালে দোকানটি ১৭ নম্বর হেলাতলা রোডের মসজিদ গলিতে স্থানান্তরিত হয়।

    প্রতিষ্ঠাতা ইন্দ্রমোহন দে টানা ৮২ বছর দোকানটি পরিচালনা করেন এবং ১৯৭২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তাঁর ছেলে বেণীমাধব দে এবং পরবর্তীতে নাতি সঞ্জয় দে দোকানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে মালিকপক্ষ প্রবাসে স্থায়ী হওয়ার পর দোকানের হাল ধরেন কমলচন্দ্র সরকার, যিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে এখানে কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে মালিকেরা বিদেশে অবস্থান করলেও প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান ও ঐতিহ্যের বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করেন।

    ইন্দ্রমোহন সুইটসের বর্তমান স্বত্বাধিকারী কমলচন্দ্র সরকার জানান, ১৩৬ বছর আগে যে পাঁচটি মিষ্টি দিয়ে ব্যবসার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজও কেবল সেগুলোই তৈরি করা হয়। পানতুয়া, রসগোল্লা, চমচম, সন্দেশ ও দানাদার—এই পাঁচটি পদের রেসিপি ও প্রস্তুতির পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। স্থানীয় খামারের বিশুদ্ধ গরুর দুধের ছানা দিয়ে তৈরি এসব মিষ্টিতে আটা বা সুজির কোনো সংমিশ্রণ থাকে না। পানতুয়া ভাজায় খাঁটি ঘি এবং রসগোল্লা ও দানাদারের ভেতরে খাটি ক্ষীরের ব্যবহার মিষ্টিগুলোকে অতুলনীয় স্বাদ দেয়। শতবর্ষী ঐতিহ্য রক্ষায় আজও ক্রেতাদের কলাপাতায় মিষ্টি পরিবেশন করা হয় এবং ভেতরে বসে খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো চামচ ব্যবহার না করে হাত দিয়েই খাওয়ার রীতি চালু রয়েছে। কমলচন্দ্র সরকার বলেন, ‘বিশুদ্ধ উপকরণ আর পদ্ধতিই আমাদের সুখ্যাতি দিয়েছে। মুখে দিলেই মাখনের মতো গলে যায় এসব মিষ্টি।

    এই মিষ্টির স্বাদ ও ঘ্রাণের খ্যাতি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পৌঁছেছে। এমনকি সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারও এই মিষ্টির প্রশংসা করেছেন। রবার্ট মিলার মুগ্ধ হয়ে কমলচন্দ্র সরকারকে নিউইয়র্কে ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি সেই প্রস্তাব বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন। বর্তমানে ব্যবসায়িক মুনাফা বাড়ানোর চেয়ে গুণগত মান ধরে রাখাকেই মূল লক্ষ্য বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বেশি মিষ্টি উৎপাদনের চেয়ে বিশুদ্ধতা রক্ষার এই আপসহীন নীতিই ইন্দ্রমোহন সুইটসের সুনামকে কয়েক দশক ধরে অটুট রেখেছে।

    আরও পড়ুন

    খুলনার চুইঝালে বাড়ছে শতকোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা
    চলতি বছরের ৯ মাসে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের মুনাফা বাড়ল ৩৫ শতাংশ
    সরকারি কাজে নতুন ঠিকাদারদের সুযোগ: আসছে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন সংশোধন
    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন মো. মাহমুদুল হক
    রোববার নতুন পোশাক শ্রমিক মজুরি বোর্ড গঠন করবেন শ্রমমন্ত্রী
    প্র্যাবের নতুন সভাপতি ইয়াহিয়া মির্জা, সম্পাদক নজরুল ইসলাম
    দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে ১৬৩৩ টাকা কমল
    যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানিতে দুই প্রতিষ্ঠানের দর যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত