
নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজের নাম কখনো মোস্তফা আবার কখনো মোশারফ বা মামুন। ডিবি, এসবি, সিআইডি, পিবিআই, ব্যবসায়ী, ইনকাম টেক্স বা সরকারি উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বেড়ান তিনি। অন্যের ব্যবহ্নত মোবাইলের সিম কিনে নেন মোটা অংকের বিনিময়ে। উদ্দেশ্য একটাই প্রতারনা করা। সঠিক নাম ও ঠিকানা বিহীন এমনই এক প্রতারকের খোঁজে আমরা ধনাগোদা পরিবারের সদস্যরা।
উচ্চতায় প্রায় ছয় ফুটের কাছাকাছি ছবিতে থাকা এই ব্যক্তিটি চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় নিজেকে দানবীর ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে অভিনব কায়দায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের মালামাল হাতিয়ে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে আসছে। ব্যবসায়ীদের আস্তা অর্জনের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে দান করছেন এমন কথা বলে মোটা অংকের পণ্য ক্রয় করে সে। পণ্য ক্রয়ের মোট মূল্যের অর্ধেক নগদে প্রদান করলেও বাকি টাকা জন্য প্রদান করেন চেক। কিন্তু বিধিবাম! ব্যাংকের চেক এর পাতায় বহুরুপী এই মানুষটি স্বাক্ষর করলেও বাস্তবে তা এক মহিলার। যিনি থাকেন চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায়। ওই মহিলা জানান, ইসলামী ব্যাংক ফরিদগঞ্জ শাখায় তার নামে একটি একাউন্ট রয়েছে। তবে ওই চেক বইটি তিনি হারিয়েছে, যার কারনে থানায় একটি জিডি করেছেন। আর ব্যাংক ম্যানেজার জানান চেক বই হারানো ঘটনায় জিডি করলেও ওই একাউন্টে কোনো টাকা নেই!

বহুরুপী এই প্রতারকের সহযোগী হিসেবে আমরা পেলেছিলাম দুই সিএনজি চালককে। যারা প্রতারনার মাধ্যমে ক্রয়কৃত পণ্য বহনে সাহায্য করতো। কিন্তু ওই দুই চালক এমন ভাব করছে যেন ভাজা মাছ উল্টিয়ে খেতে জানে না। তাই মনে হচ্ছে, ‘ডাল মে কুছ কালা হে’।
বহুরুপী ওই প্রতারক চাঁদপুর শহরের হকার্স মার্কেটের এক লাইট ব্যবসায়ীর ৩০ হাজার টাকা, মতলব বাজারের এক ব্যবসায়ীর ২৭ হাজার টাকা, আরেক ব্যবসায়ীর বিকাশ নম্বর থেকে পিন কোড দিয়ে টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যায়। এছাড়াও চাঁদপুর সদরের এক রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অংকের মালামাল নিয়ে ওই চেক বই থেকে একটি চেক দিয়ে যায়। চেক দিয়ে প্রতারনার করার জন্য বহুরুপী ওই প্রতারক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত সময়কে বেছে নেন। এছাড়াও চাঁদপুর শহরে চলাচলের জন্য ব্যবহার করেন ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল। জানি না, এটাও কী প্রতারনা করে হাতিয়ে নিয়েছেন কী না?
অনুসন্ধান করুন এই প্রতারকের এবং সাবধান থাকুন।
