• প্রচ্ছদ
  • রাজশাহী বিভাগ
  • প্রতিবন্ধী ভাতার ১২ সিমসহ আটক ইউপি সদস্য
  • প্রতিবন্ধী ভাতার ১২ সিমসহ আটক ইউপি সদস্য

    রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোবیندপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রতিবন্ধী ভাতার ১২টি সিম কার্ডসহ স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোবیندপাড়া ইউনিয়নের মাড়িয়া মোড়ে একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে ভাতার টাকা তুলতে গেলে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে এবং উদ্ধার হওয়া সিমগুলো ইউপি চেয়ারম্যানের হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁরা যাচাই–বাছাই করে তালিকা তৈরি করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম মাড়িয়া মোড়ের বিকাশ এজেন্ট এনামুল হকের দোকানে বিভিন্ন অপারেটরের ১০টি সিম কার্ড নিয়ে টাকা তুলতে যান। এ ছাড়া তাঁর নিজের ব্যবহৃত মুঠোফোনে আরও দুটি সিম যুক্ত ছিল। একই ব্যক্তি একসঙ্গে এতগুলো সিম থেকে ভাতার টাকা তোলার চেষ্টা করায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে। বিষয়টির কারণ জানতে চাইলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাঁকে চড়-থাপ্পড় মেরে দোকানের বাইরে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে স্থানীয় হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এবার চিয়ারমেন পদে ভুট করবের চাইছি।

    হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মাকসুদ রুপক জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার পর স্থানীয়দের কাছ থেকে ইউপি সদস্য শহিদুলকে উদ্ধার করা হয়। তাঁর কাছে পাওয়া ১২টি সিম কার্ডের মধ্যে ১০টি জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট জমা দেওয়া হয়েছে। বিকাশ এজেন্ট এনামুল হক নিশ্চিত করেন, উক্ত ইউপি সদস্য ১০টি সিম দিয়ে টাকা তোলার চেষ্টা করেছিলেন, তবে হট্টগোলের কারণে কোনো টাকা তুলতে পারেননি।

    অভিযোগ প্রসঙ্গে গোবیندপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, বিগত সরকারের সময় থেকেই ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ভুয়া তথ্য প্রদান করে নিজ ও স্বজনদের নামে ১২টি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বানিয়ে নিয়মিত টাকা আত্মসাৎ করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সেই ভাতার টাকা জমা হওয়ায় তিনি তা তুলতে গিয়ে ধরা পড়েন। চেয়ারম্যান স্পষ্ট করেন, পরিষদে বরাদ্দ আসার পর সদস্যরা এলাকা থেকে নাম প্রস্তাব করেন, সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকে না। ইউপি সদস্যের কাছ থেকে কোনো টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশেই সিমগুলো তাঁর কাছে রাখা হয়েছে। জানতে চাইলে গোবিন্দপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, বিগত সরকারের সময় থেকে ওই ইউপি সদস্য ১২ জনকে প্রতিবন্ধী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভাতার টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন। এ সময় শহিদুলের পক্ষের লোকজন সেখানে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

    অন্যদিকে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম নিজের দাবির পক্ষে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমেই তাঁর পরিবার ও স্বজনদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করার কারণেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে এবং ভাতার ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

    এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মতিনুর রহমান জানান, বর্তমান সরকার অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের প্রতি মাসে এক হাজার টাকা হারে তিন মাস পর পর বিকাশ অ্যাকাউন্টে ভাতা প্রদান করে থাকে। উক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে নিজ ও স্বজনদের নামে অনিয়ম করে ভাতা নেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। চলতি কিস্তির টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাওয়ায় তা বাতিল করা সম্ভব হয়নি, তবে ভবিষ্যতে তিনি আর এই ভাতা পাবেন না। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে বলে এই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তদন্তেও এর সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে তাঁদের সঙ্গে শহিদুলের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। ইতিমধ্যে সিমগুলোতে ভাতার টাকা ঢুকে যাওয়ায় কিছু করা যায়নি।

    আরও পড়ুন

    ৫ দফা দাবিতে রামেক হাসপাতালে ইন্টার্নদের ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি
    অস্থিরতা তৈরি চক্রান্তের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান
    লাল গামছায় থামে ট্রেন, ৬৪ বছরেও হয়নি রাজশাহী-আব্দুলপুর রেললাইনের
    ১২৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে গুরুদাসপুরের আব্বাস প্রামাণিক
    বগুড়ায় শুরু হলো সুখের খামার এগ্রো ভিলেজের নির্মাণকাজ
    বগুড়ায় কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
    রামেবি উপাচার্যকে পদত্যাগ করানোয় মামলা, গ্রেপ্তার ১
    বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক