
গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস প্রামাণিক সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ১২৩ বছর বয়সী এই প্রবীণ দীর্ঘ বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তার ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০৩ সালে জন্ম নেওয়া এই ব্যক্তি ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক সময়ের সাক্ষী ছিলেন। খুকনীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক তার কর্মজীবনে মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন। পাশাপাশি নিজের এলাকায় বহু শিশুকে বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষাদানে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার পরিবারে ছয় ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দুর্গাপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে। তার ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী জন্মতারিখ ১৯০৩ সাল।
আব্বাস প্রামাণিকের জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর ও আলোচিত দিক ছিল তার দৃষ্টিশক্তি। শতবর্ষ পার করার পরও তিনি চশমা ছাড়াই নিয়মিত পবিত্র কোরআন শরীফ পাঠ করতে পারতেন। এমনকি খালি চোখেই সব কিছু স্পষ্ট দেখতে পাওয়ার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত হাতে ক্যাসিও ঘড়ি পরতেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ অবস্থায় সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত হয়ে সকলের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা কুড়িয়েছিলেন। সেই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
একসময় অর্থবিত্ত থাকলেও জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও নিভৃত জীবনযাপন করেছেন। একটি ভাঙা ঘরেই তিনি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন। তিনি নিজের যাবতীয় কাজ একাই করতেন এবং অধিকাংশ সময় হেঁটেই চলাচল করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তার স্ত্রী অনেক আগে মারা যাওয়ায় নাতি-নাতনিরা নিয়মিত তার দেখাশোনা করতেন। বাবার স্মৃতিচারণ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়ে আলিমা বেগম বলেন, পাঁচ বছর বয়সে মা মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি বাবার সান্নিধ্যেই বেড়ে উঠেছেন। সুযোগ পেলেই পছন্দের খাবার নিয়ে তিনি বাবার সাথে দেখা করতে যেতেন এবং আব্বাস প্রামাণিক তার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সাথেই সময় কাটাতে পছন্দ করতেন।
প্রবীণ এই ব্যক্তির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ জানান, আব্বাস প্রামাণিক ছিলেন এই অঞ্চলের প্রবীণতম ব্যক্তিদের একজন। উপজেলা প্রশাসন বরাবরই তার পাশে ছিল। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ফাহমিদা আফরোজ তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
