
সমির ভট্টাচার্য্য ঃ
মতলব দক্ষিণ উপজেলায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলার মোড় ঘুরাতে বাদীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করা হয়েছে। হত্যার চেষ্টা মামলার ১ নং আসামী মা মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই মামলাটি করেছেন বলে জানান বাদীর পরিবার।
জানা যায়, উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নের পেয়ারি খোলা গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির মনির হোসেনের ছেলে রনিকে ঈদুল ফিতরের আগের রাতে (১৩ মে) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে একই বাড়ির প্রবাসী আইয়ুব আলী প্রধানের ছেলে শুভ প্রধান। হামলায় শুভর মা ডলি বেগম, চাচাতো ভাই ইসমাইল, রাজনসহ বেশ কয়েকজন সহযোগিতা করে। এঘটনায় রনির চাচা জাকির হোসেন বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা দায়ে একটি মামলা করেন। মামলার ভিত্তিতে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশের এসআই বাছির ১৮ মে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামি শুভ প্রধানকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে হত্যা চেষ্টা মামলার মোড় ঘুরাতে আসামি শুভ প্রধানের মা ডলি বেগম মিথ্যা তথ্য দিয়ে হামলায় আহত রনি ও তার চাচা স্বপন, ইকবাল এর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল চাঁদপুর এর অনুকূলে একটি মামলা দায়ের করেন। আর এই মামলার তদন্তভার চাঁদপুর জেলার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ( পিবিআই) কে প্রদান করা হয়।
রনি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ডলি বেগম তার মামলার এজাহারে যে সকল সাক্ষী রয়েছে তাদের সাথে কথা বলেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলার বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে। মামলার এজাহারে সাক্ষী ওই এলাকায় মৃত মহর আলি প্রধানের ছেলে মুসলিম ( সাবেক মেম্বার) ও রাজ্জাকের ছেলে বোরহান জানান, তাদের কেন এই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে সেটা তারা নিজেরাও জানেন না। এছাড়া যে ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা সত্য নয় বলে মন্তব্য করেন। মামলার অপর সাক্ষী পেয়ারী খোলা গ্রামের কবির আলমের ছেলে কাউছার হোসেন, পেশায় ব্যবসায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ডলি বেগমের মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, শুভর মা যে ঘটনার কথা উল্লেখ করে রনির চাচাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তা সত্য নয়। বরং ঈদের আগের রাতে আমার দোকানের পাশেই রনিকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।
ডলি বেগমের মামলার তদন্তে আসা পিবিআইয়ের এসআই মোঃ শরীফ উল্লাহ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।
এদিকে হামলায় আহত রনি ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদের আগের দিন রাতের হামলার বিষয়টি কে অন্য দিকে প্রবাহিত করার জন্যই ডলি বেগম মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায় বিচার চাই।
