
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকা থেকে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় আকাশপথে যাত্রী ও উড়োজাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত এক মাসে অন্তত নয় দফা চুরির ঘটনায় রানওয়ের লাইট, ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক ক্যাবল, নেভিগেশন সরঞ্জামের পাশাপাশি ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি কিট খোয়া গেছে। এসব সরঞ্জামের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। রানওয়ের অ্যাপ্রোচ লাইট মূলত পাইলটদের বিমান অবতরণের দিক ও অবস্থান বুঝতে সহায়তা করে, ফলে এমন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। ফলে এ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে উড়োজাহাজের নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।
সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর রাতে রানওয়ের ২৩ থেকে ০৫ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকার লাইট বন্ধ থাকার বিষয়টি বিমানবন্দরের বৈদ্যুতিক বিভাগের নজরে আসে। ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তারা ২০টি ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি কিট ও রানওয়ে লাইট চুরির তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে ৯ অক্টোবর রানওয়ের ২৩ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকায় মাটির পাঁচ ফুট নিচ থেকে বৈদ্যুতিক ক্যাবল কেটে তামার তার চুরির অভিযোগ ওঠে। এরও আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ০৫ নম্বর অ্যাপ্রোচ এলাকায় নিরাপত্তাবাতির ক্যাবল চুরি হয়, যার ফলে ওই অংশে টানা দুই দিন আলোকব্যবস্থা অচল ছিল। সূত্রের দাবি, ক্যাবল চুরির কারণে এর আগে কয়েকটি উড়োজাহাজকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করতে হয়েছিল। এছাড়া নেভিগেশন-সংশ্লিষ্ট ভিওআর এলাকায়ও বারবার ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটছে।
বিমানবন্দরের মতো সুরক্ষিত ও স্পর্শকাতর এলাকায় বারবার চুরির ঘটনায় এখানকার নিরাপত্তা তদারকি ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে এখানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বিমানবাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, একবার মালামালসহ চোরকে আটক করা হলেও তাকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়, যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন কোনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকা সত্ত্বেও বারবার চুরির ঘটনায় নজরদারির অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা অডিট হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় শাহ আমানতসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা মান যাচাই করা হবে। বেবিচকের মেম্বার সেক্রেটারি এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল চুরির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে নির্দিষ্ট কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার যাত্রী চলাচলকারী এই বিমানবন্দরে দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার ও রানওয়ের অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
