
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে নবনির্মিত ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রা শুরু হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর, সোমবার নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড থেকে এয়ার নিউজিল্যান্ডের একটি উড়োজাহাজ এই বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং পুনরায় অকল্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এই বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট কার্যক্রমের সূচনা হলো। প্রায় চার দশকের বেশি সময়ের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ফসল এই স্থাপনাটি সিডনির বর্তমান প্রধান বিমানবন্দরের বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখবে। পশ্চিম সিডনির দ্রুত বর্ধনশীল এলাকায় আকাশপথে যাতায়াতের চাহিদা মেটাতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরে সেটি আবার অকল্যান্ডের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।
এয়ার নিউজিল্যান্ডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেট বয়ার জানিয়েছেন, নতুন একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধনী প্রক্রিয়ার অংশ হওয়া অত্যন্ত বিরল এক অভিজ্ঞতা। তার মতে, পশ্চিম সিডনিতে বসবাসকারী ২৫ লক্ষাধিক মানুষের জন্য এই বিমানবন্দরটি যাতায়াতের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একটি রানওয়ে নিয়ে নির্মিত এই বিমানবন্দরটি অস্ট্রেলিয়ার গত পাঁচ দশকের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত প্রথম বড় আকাশপথ কেন্দ্র। গত জুলাই মাস থেকে এখানে পণ্যবাহী ফ্লাইট চলাচল শুরু হলেও রোববার থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহণ কার্যক্রমও চালু হয়েছে। নতুন বিমানবন্দরটি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন আকর্ষণ ঘুরে দেখতে আসা পর্যটকদের জন্য আরেকটি প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে।
সিডনির প্রধান বিমানবন্দর কিংসফোর্ড স্মিথ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ততম বিমানবন্দর, যেখানে তিনটি রানওয়ে রয়েছে। গত বছর এখানে ৪ কোটি ২০ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন। তবে শহরের মূল কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় শব্দ দূষণ ও রাতের ফ্লাইট পরিচালনার সময়সীমা নিয়ে সেখানে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে, ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পরিচালনার সুযোগ থাকায় তা এয়ারলাইনগুলোকে বাড়তি নমনীয়তা দেবে। বিমানবন্দরটির প্রধান নির্বাহী সাইমন হিকি মনে করেন, এটি আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। শহরের কেন্দ্র থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় উড়োজাহাজের শব্দ এবং রাতের ফ্লাইট পরিচালনায় সময়সীমার মতো বিষয়গুলো সেখানে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে জেটস্টার এই বিমানবন্দরের প্রধান অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন হিসেবে গোল্ড কোস্ট, মেলবোর্ন ও ব্রিসবেন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আগামী বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম আরও জোরদার হবে। ভিয়েতজেট এয়ার ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে, ফিজি এয়ারওয়েজ মার্চ মাসে এবং কাতার এয়ারওয়েজ ডিসেম্বরে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করেছে। পরিবহন অবকাঠামোর বাইরে বিমানবন্দরটি নির্মাণে ৫৩০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার বা প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের মতে, এই বিমানবন্দরটি পশ্চিম সিডনির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
