
বগুড়ার শাজাহানপুরে ৪৫ দিনের এক নবজাতককে সঙ্গে নিয়ে যাত্রীবাহী বাসে ইয়াবা পাচারকালে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সোমবার দুপুরে অধিদপ্তরের বগুড়া জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা সারমিন খানম (২৫) ও তাঁর স্বামী সোহাগ মৃধা (৩১)। বর্তমানে তাঁরা রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় বসবাস করেন। সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার বিকেল চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে শাজাহানপুরের নয়মাইল জামালপুর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এ অভিযান চালানো হয়। ডিএনসির বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জিললুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল ঢাকা থেকে বগুড়াগামী ‘আর কে ট্রাভেলস’-এর একটি বাসে তল্লাশি চালায়। বাসটির এফ-১ ও এফ-২ আসনে বসা ওই দম্পতি টিকিট ছাড়াই ভ্রমণ করছিলেন। তল্লাশির সময় তাঁদের শরীরের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারমিন খানমের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটের সঙ্গে কালো স্কচটেপে মোড়ানো ২০টি প্যাকেটে চার হাজার পিস এবং বাম পায়ের হাঁটুর নিচে ১৯টি প্যাকেটে আরও তিন হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা লুকানো ছিল। ডিএনসির ভাষ্য অনুযায়ী, সারমিন খানমের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটের সঙ্গে কালো স্কচটেপে মোড়ানো ২০টি নীল জিপারযুক্ত প্যাকেটে ৪ হাজার পিস এবং বাম পায়ের হাঁটুর নিচে একই কৌশলে লুকানো ১৯টি প্যাকেটে আরও ৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।
প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট সাত হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়, যার ওজন ৭৮০ গ্রাম। এ সময় মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও দুটি অ্যাংলেটও জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় পরিদর্শক সামসুল আলম বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা বের করতে তদন্ত চলছে। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়, যার মোট ওজন ৭৮০ গ্রাম।
