শিরোনাম
সিলেট-মাস্কাট রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াল সালামএয়ার আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে মারধরের অভিযোগ মাদারীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ প্রবৃদ্ধির ফাঁদ ও বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণের উপায় কী? সৌদি আরবে ফ্লাইট বন্ধে ১০০ কোটি টাকা লোকসানের মুখে এয়ারলাইনস মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি জামায়াত নেতা সেলিমের আহ্বান অ্যান্ডারসনকে অসম্মানজনক বিদায় জানিয়েছে ল্যাঙ্কশায়ার, ক্ষুব্ধ স্টুয়ার্ট ব্রড দীর্ঘ ১১ বছর পর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য খুলল লিবিয়ার আকাশসীমা হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের
  • প্রচ্ছদ
  • অর্থনীতি
  • প্রবৃদ্ধির ফাঁদ ও বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণের উপায় কী?
  • প্রবৃদ্ধির ফাঁদ ও বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণের উপায় কী?

    বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নতুন পূর্বাভাস বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তিন ফাঁদে গভীর সংকটে অর্থনীতি, পরিত্রাণের পথ কী।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

    সংস্থাটির প্রাক্কলন বলছে, পরবর্তী অর্থবছরে তা আরও হ্রাস পেয়ে ২ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াবে এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তা ৩ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাসও ইতিবাচক নয়; তারা যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশঙ্কা করছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হলেও, বাস্তব পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জিং। একই সঙ্গে গড় মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যেখানে সরকারের লক্ষ্য ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

    প্রবৃদ্ধির এই নিম্নগতি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কবলে পড়ে অর্থনীতি কার্যত মন্দার মুখোমুখি। এর নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। যদিও প্রবাসী আয় কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে, কিন্তু তা দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থান সৃষ্টির বা টেকসই বিনিয়োগের বিকল্প হতে পারে না। তবে দেশের অর্থনীতি যে পথে চলছে, তাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে—এই সতর্কবার্তা দিচ্ছে। অর্থাৎ অর্থনীতি এখন মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলো মানুষের সঞ্চয়ের টাকা ভালো ব্যবসায় খাটানোর জন্য ঋণ হিসেবে দিতে পারছে না। জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় মজুরি দিয়ে আগের মতো কেনাকাটা করা যাচ্ছে না। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার পথে বাধা কোথায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সরকারকে এখন কিছু সুনির্দিষ্ট কাজকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    বর্তমান সংকটের পেছনে বিশ্ব অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ উভয় কারণই দায়ী। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়ায় আমদানি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তবে দেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগের পরিবেশের অবনতিই সবচেয়ে বড় সমস্যা। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের অভাব, উচ্চ ঋণের খরচ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা উদ্যোক্তাদের নতুন উদ্যোগে নিরুৎসাহিত করছে। এছাড়া সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও রাজস্ব আয়ের সীমাবদ্ধতা সংকটকে ঘনীভূত করছে। জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ রাজস্ব সংগ্রহের সম্ভাবনা বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত নাজুক। এই দুর্বল অবস্থার পেছনে বহির্বিশ্বের ঘটনাও আছে, দেশের সমস্যাও আছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জাহাজ চলাচল ও পণ্য সরবরাহে বাধা আমদানি, পরিবহন ও উৎপাদনের খরচ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ জ্বালানির বড় অংশ বিদেশ থেকে কেনে, তাই এসব ধাক্কা এখানে বেশি লাগছে। বিদেশে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা কমলে এবং বিশ্ববাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লে কারখানাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দেশের ভেতরেই। অনেক ঋণ সময়মতো ফেরত আসছে না, আর ব্যাংক পরিচালনায়ও দুর্বলতা আছে। অন্যদিকে ঋণের বোঝা বাড়ার বা আয় কমে যাওয়ার কারণে অনেক ব্যবসা নতুন বিনিয়োগের জন্য ঋণ পাচ্ছে না।

    অর্থনীতিকে এই প্রবৃদ্ধির ফাঁদ থেকে বের করতে হলে সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রয়োজন। প্রথমত, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠনে কঠোর ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রয়োজন। করদাতাদের অর্থ দিয়ে অদক্ষ ব্যাংক বাঁচানোর আগে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, ঋণগ্রহীতা কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লোকসান হিসাবভুক্ত করা, ঋণ আদায় করা এবং নিজেদের অর্থের ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা দিতে হবে।

    দ্বিতীয়ত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যয় সংকোচন এবং ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। করজাল বিস্তৃত করা এবং ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করা জরুরি। পাশাপাশি, সরকারি প্রকল্পের গুণগত মান ও উপযোগিতা যাচাইয়ে কঠোর হতে হবে। কোনো প্রকল্প শুরুর আগে அதன் উপযোগিতা ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রকল্পের পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও সুফল জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। মন্ত্রণালয়গুলোকে দেখাতে হবে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ফলে মানুষ কী সুফল পাচ্ছে। কর ও অন্যান্য আয় কম হলে সেবা, অবকাঠামো এবং দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা করার মতো অর্থ সরকারের হাতে কম থাকে।

    তৃতীয়ত, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে ব্যয় ও বাস্তবায়নের সময়সীমা জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তিসমূহ স্বচ্ছ করতে হবে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতার অব্যবহৃত অংশ বা ক্যাপাসিটি চার্জ পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস অনুসন্ধান ও সঞ্চালন ব্যবস্থা উন্নত করার মাধ্যমে উৎপাদনমুখী শিল্পের চাকা সচল রাখতে হবে। ব্যবসার সুযোগ থাকলেও নিয়মিত বিদ্যুৎ না পেলে, সহজে ঋণ না পেলে বা নিয়মকানুন বদলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে পিছিয়ে যান।

    পরিশেষে, আইএমএফের মতো সংস্থার ঋণ পাওয়ার শর্তগুলো পূরণের চেয়েও বড় বিষয় হলো নিজস্ব উদ্যোগে সংস্কারের মালিকানা বজায় রাখা। দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটানোর জন্য ব্যাংক, জ্বালানি, কর এবং বিনিয়োগ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার একসঙ্গে করা ছাড়া বিকল্প নেই। এসব খাতের সমস্যা একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কোনো সমাধান টেকসই হবে না। ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, আত্মনির্ভরশীল ও স্বচ্ছ সংস্কারই বর্তমান অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের একমাত্র পথ। কোন ঋণ আদায় করা সম্ভব আর কোনটি আদায় করা কঠিন—তা পরিষ্কার না হলে শুধু নতুন ঋণ দিয়ে সমাধান হবে না।

    আরও পড়ুন

    জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও গভীর করার ডাক প্রধানমন্ত্রীর
    মেট্রোরেলের নতুন দুই পথের রেলপথ ও স্টেশন তৈরিতে চুক্তি সই
    আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক অর্থসচিব পদে খায়েরুজ্জামান মজুমদার
    বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
    বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা জাপানের
    এলপিজির বাড়তি দাম: আবারও দাম বাড়ানোর আবেদন ব্যবসায়ীদের
    স্পেনের টেক্সটাইল মেলায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের ১৮ প্রতিষ্ঠান
    রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে