
নরসিংদীর মেঘনাবেষ্টিত চরাঞ্চল চরদিঘলদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী টেটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরে পুলিশ চরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে আটক করে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চরদিগলদী ইউনিয়নের জিতরামপুর ও টিডিরচর গ্রামের শহীদ মেম্বার এবং চাঁন মিয়ার গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। গত দুই মাসে এলাকায় অন্তত চার থেকে পাঁচ দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ভোরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা টেঁটাসহ দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি লড়াইয়ে লিপ্ত হন। এতে আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের পর আহতেরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ওসি কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ঢাকা মেডিকেলেই ৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বাকিরা জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মামলা রয়েছে বলেও তিনি জানান। এ ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন এবং জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৩-৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
সংঘর্ষ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন উভয় পক্ষ। চাঁন মিয়া দাবি করেন, প্রতিপক্ষরা টেঁটা ও ককটেল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং শহীদ মেম্বার এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করছেন। অন্যদিকে শহীদ মেম্বার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, যাতে নারীসহ তাদের পক্ষের অনেকেই আহত হয়েছেন। পুলিশ বর্তমানে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রয়েছে। শহীদ মেম্বার তাঁর দোসরদের সঙ্গে আঁতাত করে বারবার আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে এলাকার শান্তি নষ্ট করছেন। আমরা যখন ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম, তখন এ হামলার ঘটনা ঘটে।
