শিরোনাম
ফ্লোরিডায় আবাসিক এলাকায় ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত: নিহত ৯ রাঙ্গুনিয়ায় হামলায় আহত সমাজসেবক সাইদুর রহমানের মৃত্যু ফরিদপুরে নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে পিবিআইয়ের দীর্ঘ রাতভর অভিযান পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কার ও সম্মিলিত দায়বদ্ধতার: এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয় ইরানে সামরিক হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসরাইল মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দিলেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হ্যালি জাপানি শর্ত মেনে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নেত্রকোণায় শ্রেষ্ঠ যুব উদ্যোক্তা হলেন শিক্ষক ও আলেম আমিনুল ইসলাম সরকারি কাজে নতুন ঠিকাদারদের সুযোগ: আসছে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন সংশোধন প্রথম বর্ষপূর্তিতে সান ফুকুওক এয়ারওয়েজের অভাবনীয় সাফল্য
  • প্রচ্ছদ
  • ক্যাম্পাস
  • পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কার ও সম্মিলিত দায়বদ্ধতার: এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয়
  • পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কার ও সম্মিলিত দায়বদ্ধতার: এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয়

    এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার নিয়ে এবার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অর্থাৎ, এই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২২ বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সর্বনিম্ন। উত্তীর্ণদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর এই পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরে পাসের হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা গত বছরের ৬৩ হাজার ২১৯ থেকে কমে এবার ৩৫ হাজার ৯৪৮-এ দাঁড়িয়েছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও কমে ৩৫ হাজার ৯৪৮-এ দাঁড়িয়েছে, যা গত বছর ছিল ৬৩ হাজার ২১৯, এক বছরে ২৭ হাজারেরও বেশি হ্রাস। এইচএসসির ফলাফলে ২২ বছরে এত বড় অবনতি যেসব কারণে। ফলে যাঁরা সত্যিকার অর্থে পড়াশোনা করেছেন কেবল তাঁরাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু, মানতে হবে যে যে নিয়ম।

    ফলাফল বিপর্যয়ের এই ধারা নতুন নয়। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে শিক্ষাখাতে অস্থিরতা ও অবনতি স্পষ্ট। গত তিন বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে নেমে আসে ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশে এবং চলতি বছর তা আরও কমেছে। বিশেষ করে ইংরেজির মতো বাধ্যতামূলক বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া সামগ্রিক বিপর্যয়কে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এছাড়া সারা দেশে ২০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, যা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে দুটি ভিন্ন ধরনের সংস্কারের কথা ভাবা যায়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফলকে নিছক ‘খারাপ’ না বলে ‘বাস্তবসম্মত’ হিসেবে দেখা উচিত।

    কঠোর মূল্যায়নের ফলে নকলের সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রকৃত মেধাবীরাই উত্তীর্ণ হতে পেরেছেন। তবে এই বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে বহুমুখী সংকট। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুঠোফোন ও অনলাইন মিডিয়ায় মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রতিযোগিতামূলক পড়াশোনার অভাব, মফস্‌সল এলাকায় শিক্ষকসংকট এবং পরিবারের অসচ্ছলতা বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে। এ ছাড়া পরীক্ষা পদ্ধতিতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করেন, ডিগ্রি বা অনার্সের মতো এইচএসসি স্তরেও প্রথম বর্ষে বোর্ড পরীক্ষা চালু করা হলে চূড়ান্ত পরীক্ষার ঝুঁকি কমত। তবে প্রশাসনিক ব্যয় ও শিক্ষকসংকটের কারণে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এই পতন শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষাদানের মান, প্রশ্নের ধরন ও মূল্যায়নপদ্ধতি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কারের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথম বর্ষেই দুর্বলতা ধরা পড়লে সংশোধনের সুযোগ থাকে। পরিবারের শৈথিল্যে শিশুর হাতে মুঠোফোন তুলে দেওয়া হয়, যা আসক্তির জন্ম দেয়; আসক্তি পড়াশোনার আগ্রহ ও মনোযোগ কেড়ে নিয়ে শর্টকাট মানসিকতার সৃষ্টি করে; আর নকলের সুযোগ বন্ধ করে কঠোর মূল্যায়ন করা হলে এই সম্মিলিত ব্যর্থতার বাস্তব চিত্র প্রকাশ পায়।

    শিক্ষাবিদদের একটি অংশের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইংরেজির ক্ষেত্রে কেবল লিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে মৌখিক পরীক্ষা (স্পিকিং টেস্ট ২৫ নম্বর ও এমসিকিউ ২৫ নম্বর) চালু করা যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের ভীতি কমবে এবং যোগাযোগের দক্ষতা বাড়বে। একইভাবে আইসিটি বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক হলেও পাসের শর্ত থেকে শিথিল করার প্রস্তাব এসেছে। তবে এই ‘হাইব্রিড’ কাঠামো নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, কারণ ডিজিটাল যুগে আইসিটি একটি অপরিহার্য দক্ষতা এবং একে ঐচ্ছিক করলে শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়ক কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা খাতায় যা লিখেছেন তার ভিত্তিতেই এই ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে। ইংরেজিতে শুধু লিখিত নয়, মৌখিক পরীক্ষাও রাখা যেতে পারে, স্পিকিং টেস্ট ২৫ নম্বর (ডায়ালগ, স্টোরি টেলিং, ফোনেটিকস, কনভারসেশন) এবং এমসিকিউ ২৫ নম্বর, মোট ৫০ নম্বর। শিক্ষাব্যবস্থায় বিষয় সাধারণত বাধ্যতামূলক নয়তো ঐচ্ছিক; ‘ফেল করলে ক্ষতি নেই’ এমন হাইব্রিড কাঠামো প্রশাসনিকভাবে জটিল এবং ফলাফল গণনা ও ট্রান্সক্রিপ্ট পুনর্বিন্যাসের দাবি রাখে।

    ফলাফল বিপর্যয় নিছক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্যতা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘদিনের দুষ্টচক্রের ফল। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক কাঠামোর দায়বদ্ধতার জায়গাটি আজ প্রশ্নবিদ্ধ। কেবল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর একক দোষ না চাপিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও নীতিনির্ধারকসহ সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল সার্টিফিকেট অর্জন নয়, বরং জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি—এই দর্শন ধারণ করাই হবে বিপর্যয় থেকে উত্তরণের মূল পথ। লেখক ফয়সাল হাবিব মনে করেন, কঠোর কিন্তু অর্থবহ মূল্যায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমেই কেবল এই প্রজন্মকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে সংখ্যাগুলোর পেছনে তাকালে এমন কিছু কারণ সামনে আসে, যা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

    আরও পড়ুন

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ বিষয়ের কারিকুলাম আধুনিকায়নের কাজ শুরু
    এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ফের পরীক্ষার সুযোগ
    এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাস ৫২.১২ শতাংশ
    অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভিসানীতি: বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের করণীয়
    জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত
    রাজু ভাস্কর্যে বিসিএস গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে ছাত্রলীগের ৪ জন
    মানারাত স্টেম ফেস্টে খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী চমক
    কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: জবি শিক্ষার্থীসহ ১০ জনের মৃত্যু