
পাবনার সদর উপজেলার পুষ্পপাড়া হাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নৃশংস এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হাটের ইজারাদারের নিজস্ব কার্যালয়ে ঢুকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী শ্রমিক লীগ নেতা আব্দুস সালাম (৫৭) ও তার ভাতিজা রিপন হোসেনের (৩৫) ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের দুজনকে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুস সালাম পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আরজ আলীর ছেলে। তার সঙ্গে প্রাণ হারানো রিপন হোসেন একই গ্রামের ইউপি সদস্য ওমেদ আলীর ছেলে এবং চাচার ইজারার কাজে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইজারাদারের নিজস্ব অফিসে ঢুকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় ৫-৭ জনের একটি সশস্ত্র দল। তবে ঠিক কী কারণে এবং কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় ভুক্তভোগীরা হাটসংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ পাঁচ থেকে সাতজনের একটি সশস্ত্র দল অফিসে প্রবেশ করে আব্দুস সালামকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। চাচাকে রক্ষা করতে ভাতিজা রিপন এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকেও গুলি করে। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুষ্পপাড়া হাটের ইজারা ও এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখার বিরোধ থেকেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে দু’জনই অফিসের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পর আতাইকুলা থানার পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ হিসেবে দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুষ্পপাড়া হাটসহ পুরো এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত কারণ উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য পুলিশি তৎপরতা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (তদন্ত) জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
