
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বুক চিরে প্রবহমান জলকদর খালের তীরবর্তী গন্ডামারা ব্রিজ ও সংলগ্ন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের শত শত একর জমি এখন শুভ্র কাশফুলে ছেয়ে গেছে। বালুকাময় এই জমিতে প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে উঠেছে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, যা শরতের স্নিগ্ধতা ও বঙ্গোপসাগরের শীতল বাতাসে এক নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করেছে। বর্তমানে এলাকাটি নতুন এক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ফুটে থাকা এই কাশফুলের সমারোহ শরতের স্নিগ্ধতা ও বঙ্গোপসাগরের শীতল বাতাসের ছোঁয়া এনে দিয়েছে।
গন্ডামারা ব্রিজ পার হওয়ার পর থেকেই প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাদা চাদরের মতো ছড়িয়ে আছে কাশফুল।
সবুজ পাতার বুক চিরে বেরিয়ে আসা এই ফুলগুলো কোথাও থোকা থোকা, আবার কোথাও গুচ্ছ আকারে ফুটেছে। এমন অপরূপ সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিন পড়ন্ত বিকেলে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসছেন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে পুরো প্রান্তর, আর সন্ধ্যার আলোয় কাশফুলগুলো যেন আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বালুচরে যেন সাদা চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের এই বাড়তি চাপ সামলাতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন তৎপর হয়েছে। বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক জানান, গন্ডামারা ব্রিজ এলাকায় মানুষের সমাগম বৃদ্ধি পাওয়ায় নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ।
কাশফুলের এই মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ছোটখাটো মেলার পরিবেশও তৈরি হয়েছে। দর্শনার্থীদের আগমনকে পুঁজি করে বিকেলে সেখানে ফুচকা, চটপটি, খেলনা ও হরেক রকমের খাবারের দোকান বসছে। স্থানীয় বাসিন্দা কিবরিয়া আজম মুগ্ধতা প্রকাশ করে জানান, চারদিকে সাদা কাশফুলের মাঝে অসংখ্য মানুষের বিচরণ এক অসাধারণ দৃশ্যের অবতারণা করেছে।
ভ্রমণপিপাসুদের প্রত্যাশার চেয়েও এলাকাটি অনেক বেশি সুন্দর বলে মনে করছেন দর্শনার্থীরা। জলদী মহাজনপাড়া থেকে আসা সজল দাস বলেন, আশেপাশে বিনোদনের তেমন জায়গা নেই, তাই কাশফুল দেখতে এসে আমরা দারুণ সময় পার করেছি। একই অনুভূতি প্রকাশ করে তসলিমা বেগম জানান, বিকেলের দিকে মেয়েকে নিয়ে এসে সন্ধ্যার পরও বাড়ি ফিরতে মন চাইছে না তার। প্রকৃতির এই স্নিগ্ধতা উপভোগ করতে আগামীতে আরও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
