
রাঙামাটির সাজেক উপত্যকায় চলমান অবরোধের মুখে আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে উদ্ধার করতে গিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
বৃহস্পতিবার গঙ্গারাম বাজার ও উজোবাজার সড়কে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানে গেলে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সদস্যরা সেনাসদস্য ও পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও গুলি চালায়, যার ফলে হামলাকারীরা সরে যেতে বাধ্য হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পর্যটকদের নিরাপদে বাঘাইহাটে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা পর্যটকদের ওপর ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করেছিল। প্রায় এক ঘণ্টার মতো পর্যটকরা সেখানে আটকে ছিলেন। ঢাকা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আলী আহসান জানিয়েছেন, তারা স্বচক্ষে দেখেছেন কীভাবে সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আহত ব্যক্তিরা পর্যটক নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের শারীরিক অবস্থা ও পরিচয় সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করলে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
সড়কে গাছ ফেলে ও বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরোধ তৈরি করার পাশাপাশি আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অবরোধের সঙ্গে ইউপিডিএফের সমর্থনপুষ্ট ‘সাজেক গণ অধিকার পরিষদ’-এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ওই সংগঠনগুলোর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটনশিল্প ও স্থানীয় জনজীবন চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে। কটেজ মালিক, জিপচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মূলত পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় পাহাড়ি বাসিন্দাদের প্রাণনাশের হুমকি ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পর্যটন মৌসুমে এই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটননির্ভর মানুষের জীবিকা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শীতকালীন পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে এমন পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহনশ্রমিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
