
স্টাফ রিপোর্টারঃ
পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে, সকল শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন, চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৩ নং হানারচর ইউনিয়ন যুবদল নেতা ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক আক্তার হোসেন (মিয়াজী) তিনি বলেন, প্রতিবছর মে দিবস আসে ঠিকই কিন্তু মে দিবসের তাৎপর্যের আলোকে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের সমগ্র বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না!
তিনি বলেন শ্রমিকেরা তাদের কাজের মজুরি হিসেবে অতি সামান্য মজুরি দিয়েই কোনরকমে চলে তাদের সংসার।
ভোরের আলো ফোটার আগেই শ্রমজীবী মানুষ জীবিকার তাগিদে কাজে বেরিয়ে পড়েন! বিরতিহীনভাবে চলে সকাল থেকে প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম ।
শুধু শ্রমিকেরা নয়, যারা শ্রমিক দিবস পালন করছেন তাদের অনেকেই মহান মেয়ে দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব জানে না!
শুধু জানেন, তাদের ন্যায্য মজুরির দাবি এখনও উপেক্ষিত, এখনোও তাদের বিরাট অংশ শ্রমের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং তারা মানবাধিকার থেকেও বঞ্চিত।
পহেলা মে; মহান মে দিবস হলো শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা দিন।
সারা বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় পালন করা হয় এ মে দিবস। ১৮৮৬ সালে খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকেরা যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকের ৮ ঘণ্টা কর্ম দিবসের জন্য হে মার্কেটের সম্মুখে রাজপথে বেরিয়ে এসেছিল!
ওই দিন অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হে মার্কেটের রাজপথে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর শাসক গোষ্ঠী ও তাদের প্রশাসন কর্তৃক এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণে মুহূর্তে ঝরে পড়লো শ্রমিকদের তাজা প্রাণ!
রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হল! শত শত শ্রমিককে জীবন দিতে হলো তাদের নির্য অধিকার আদায়ের জন্য ।
সেই থেকেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র বিশ্বে এরি ফলশ্রুতিতে মহান মে দিবস পৃথিবীর দেশে দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করে আসছে শাসকগোষ্ঠী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুষ্টি!
শ্রমিক শ্রেণির অধিকার বঞ্চিত মানুষ গুলো মহান মে দিবসে আন্তর্জাতিকভাবে সংহতি ও ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার প্রকাশের দিন।
মহান মে দিবস পৃথিবীর সব শ্রমজীবী মানুষের এক অমর প্রেরণার উৎস।
অথচ আজ শ্রমিকরা তাদের নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে নিরন্তর খেটে যাচ্ছে!
তিনি বলেন মে দিবস প্রতিষ্ঠার ১৩৮ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও শ্রম মজুরি, কর্মঘণ্টা ও শোভন কর্মের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
আমাদের দেশের শ্রমজীবী মানুষের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, কোনো ক্ষেত্রেই তাদের মর্যাদা বা অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি, জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়নি।
আমাদের দেশের শ্রমজীবী মানুষ এ দিবসে এখনো তাদের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন করে আসছে।
আমাদের দেশের শ্রমিক-কর্মচারীরা এখনো তাদের শ্রমের ন্যায্য মজুরি ও ন্যূনতম অধিকার থেকে বঞ্চিত।
নারী-পুরুষ-নির্বিশেষে সমকাজে সমমজুরি থেকে তারা অনেকটা বঞ্চিত।
বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের একটা সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
বিগত শতাব্দীর শেষভাগেও আমাদের দেশে শ্রমিক শ্রেণি বিরাট আন্দোলন ও জাগরণ সৃষ্টি করেছিল।
তবে সত্যিকার অর্থে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আদর্শভিত্তিক সৎ নেতৃত্ব এবং সুস্থ ধারার নিয়মতান্ত্রিকতা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে মালিকদেরও শ্রমিকদের প্রতি আস্থা রাখার ফলে শিল্প বিকাশ ও শ্রমিকদের উন্নয়ন সম্ভব বলেই আমি মনে করছি।
আসুন আজ আমরা শপথ নেই শ্রমিক-মালিক গড়বো দেশ, আরো সামনে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।৷
