
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক আসামিকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে মারধরের অভিযোগে করা একটি মামলায় সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে বাদীর নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এ সিদ্ধান্ত নেন। বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী আবদুল আহাদ শাকিল পাটোয়ারী। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে করা মামলা বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর আবদুর রহিম রনি নামের এক আসামিকে আটকের পর মারধরের ঘটনায় তার স্ত্রী রিনা আক্তার বাদী হয়ে সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন রায়পুর থানার এসআই মো. আবু হানিফ ও নুরুল ইসলাম, এএসআই সফিক মিয়া ও সাখাওয়াত হোসেন এবং কনস্টেবল আতিক উল্যা ও ইউসুফ ঢালি।
মামলাটি দায়েরের পর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্তের প্রক্রিয়া চললেও বাদী তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বারবার নারাজি দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বাদী প্রথমবার নারাজি জানান। পরবর্তীতে পিবিআই নোয়াখালী কার্যালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হলে তারাও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, তবে সেখানেও বাদী নারাজি দেন। একই বছরের ৯ জুলাই আদালত অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করেন। গত ২ জুলাই সিআইডি আদালতে প্রতিবেদন জমা দিলে ১৭ আগস্ট বাদী তার বিরুদ্ধে পুনরায় নারাজি আবেদন করেন।
বাদীর আইনজীবী আবদুল আহাদ শাকিল পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তারা প্রভাবিত হয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। আইনজীবীর ভাষ্যমতে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজের হার্ডডিস্ক জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য না পাঠানোসহ তদন্তে বড় ধরনের গাফিলতি ছিল। এছাড়া সাক্ষীদের জবানবন্দি গুরুত্ব না দিয়ে মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বাদীর এসব যুক্তি আমলে নিয়ে আদালত সিআইডির প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে করা নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
