
অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে চেন্নাই থেকে কুয়ালালামপুরগামী মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ৭৮ জন যাত্রী ভ্রমণের সুযোগ হারান। ঘটনাটি গত ১১ অক্টোবর রাতের। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এমএইচ১৮১ ফ্লাইটটির রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে চেন্নাই ত্যাগ করার কথা ছিল। তবে উড়োজাহাজটিতে ১৭৮ জন যাত্রী থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১০০ জনকে নিয়ে ১২ অক্টোবর রাত ২টা ২০ মিনিটে এটি উড্ডয়ন করে। অবশিষ্ট ৭৮ জন যাত্রীকে বোর্ডিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বাকি ৭৮ জনকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফ্লাইটটির যাত্রা প্রায় আড়াই ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। এসব মাস্ক টেনে নামালে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে অক্সিজেন উৎপন্ন হয়।
ফ্লাইটটিতে ঠিক কী ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র বলছে, উড়োজাহাজের জরুরি অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থায় ত্রুটি থাকার কারণেই নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রী সংখ্যা সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, উড়োজাহাজের কেবিনে জরুরি অক্সিজেন মাস্কের ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি থাকলে, সেই আসনের অংশগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা যাত্রী সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষা এবং সঠিক তথ্যের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভুক্তভোগী যাত্রী অভিযোগ করেছেন যে, তাদের ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় এয়ারপোর্টে অপেক্ষায় রাখা হয়। এ সময় যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত পানি বা ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে তার দাবি। এমনকি এয়ারলাইনসের কর্মীদের কাছ থেকেও কোনো কার্যকর সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস তাদের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি প্রদান করে। দীর্ঘ বিলম্ব, অনিশ্চয়তা এবং সময়মতো তথ্য না পাওয়ার কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করেছে সংস্থাটি। বিশেষ করে যেসব যাত্রীর পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইট ধরার প্রয়োজন ছিল, তাদের ভোগান্তির বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে দেখেছে। চেন্নাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকে পড়া এসব যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরবর্তী সময়ে বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস। ফ্লাইট বিলম্ব এবং যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।
