
আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়েছেন পেসার হাসান মাহমুদ। টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। আফগান ইনিংসের ৮৩তম ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম বলে পর্যায়ক্রমে ইসমত আলম, কায়েস আহমেদ ও ওজিয়া-উর-রেহমানকে আউট করে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। তার এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস ২৪০ রানেই থেমে যায়। এর আগে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান সংগ্রহ করেছিল, ফলে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছে টাইগাররা। হাসানের হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি এবাদত হোসেনের বোলিংয়ে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেছে ২৪০ রানে।
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এটি তৃতীয় হ্যাটট্রিকের ঘটনা। এর আগে ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে পেশোয়ার টেস্টে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছিলেন লেগস্পিনার অলক কাপালি। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই কৃতিত্ব দেখান অফস্পিনার সোহাগ গাজী। সেই অভিজাত তালিকায় এবার নিজের নাম লেখালেন পেসার হাসান মাহমুদ। এই ম্যাচে ২১ ওভার বোলিং করে ৫ মেডেনসহ ৫৫ রান খরচায় মোট ৫টি উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকারের ঘটনা।
বল হাতে হাসান মাহমুদের অসাধারণ এই সাফল্যের দিনে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন এবাদত হোসেন। দিনের তৃতীয় ওভারে তিনি ইকরাম আলিখিলের স্টাম্প উপড়ে ফেলে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন। এটি ছিল ইনিংসে এবাদতের তৃতীয় উইকেট। হাসান ও এবাদতের সম্মিলিত বোলিং তোপে আফগানদের বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। দিনের শুরুতেই নতুন বলের সুবিধা নিয়ে তারা ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হন, যা পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, শুধু হ্যাটট্রিক নয়, এই ম্যাচেই বাংলাদেশের দ্রুততম পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৫০ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন হাসান মাহমুদ। এর আগে পেসারদের মধ্যে এই উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং তাসকিন আহমেদ। মাশরাফি ৭৯ উইকেট এবং তাসকিন ৫৯ উইকেট নিয়ে এতদিন তালিকার উপরের দিকে ছিলেন। হাসান মাহমুদের এমন দাপুটে বোলিং বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল। পেসারদের মধ্যে এর আগে এই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা (৭৮ উইকেট) ও তাসকিন আহমেদ (৫৯ উইকেট)।
