
ধনাগোদা ডেক্স:
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দান সিন্দুক থেকে এবার রেকর্ড পরিমাণ টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার (৬ নভেম্বর) সকালে মসজিদের ৮টি দান সিন্দুক খোলার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গণনা শেষ হয়। গণনা শেষে দান সিন্দুকগুলোতে মোট তিন কোটি ৭ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৫ টাকা পাওয়া গেছে যা দান সিন্দুক থেকে পাওয়া দানের হিসেবে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ। এর আগে দান সিন্দুক থেকে পাওয়া সর্বোচ্চ দান ছিল দুই কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি দান সিন্দুক খোলার পর ওই টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
সাধারণত তিন মাস পর পর পাগলা মসজিদের দান সিন্দুক খোলা হয়। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দান সিন্দুক খোলার সময়ের ব্যবধান বাড়ানো হয়েছে। এবার ৪ মাস ১৭ দিন পর এসব দান সিন্দুক খোলা হয়েছে।

দান বাক্সের টাকা গণনা চলছে
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের ৮টি দান সিন্দুক খোলা হয়। দান সিন্দুক থেকে টাকা খুলে প্রথমে বস্তায় ভরা হয়। এবার বড় বস্তায় ১২ বস্তা টাকা হয়েছে। এরপর শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনা। টাকা গণনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদ মাদরাসার শতাধিক ছাত্র, শিক্ষক, রূপালী ব্যাংকের ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১০ জন আনসার এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ, কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা খানমের তত্ত্বাবধানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম, মো. শিহাবুল আরিফ, অর্ণব দত্ত ও মাহামদুল হাসান, পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা মো. শওকত উদ্দীন ভূঞা, রূপালী ব্যংকের এজিএম মো. রফিকুল ইসলাম টাকা গণনার কাজ তদারকি করেন। টাকা গণনা নিজ চোখে দেখতে শহরের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মসজিদে ভিড় করেন।
কথিত আছে, খাস নিয়তে এই মসজিদে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। সেজন্য দূর-দূরান্ত থেকেও অসংখ্য মানুষ এখানে দান করে থাকেন। গত বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর লকডাউনের সময়ে মসজিদে মুসল্লিদের চলাচল সীমিত এবং মহিলাদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়া হয়। তখনকার পরিস্থিতিতেও মসজিদটিতে মানুষ দান অব্যাহত রাখেন।
টাকা গণনা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা খানম জানান, পাগলা মসজিদের দান সিন্দুক খুলে এবার তিন কোটি ৭ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৫ টাকা পাওয়া গেছে। টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাগলা মসজিদের দান সিন্দুকে জমা পড়েছে। ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, পাগলা মসজিদকে একটি অন্যতম আধুনিক ইসলামিক স্থাপত্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষে কাজ চলছে।
