
ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটের ককপিটে হামলার ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির ফেডারেল অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম শনিবার (১০ অক্টোবর) জানায়, সন্দেহভাজন সহ-পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। ২৯ বছর বয়সী ওমানি নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার আদলে আত্মঘাতী হামলার এই অভিযোগ আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনি একাই এই কাজ করেছেন। তবে তার পেছনে কোনো সহযোগী আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পড়াশোনার সময় থেকেই হাম্মাম আল-হাম্মামি চরমপন্থী মতাদর্শের সংস্পর্শে এসেছিলেন। ভয়াবহ এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি এর আগে দুইবার ইসরায়েল সফর করেছিলেন, যাতে উড্ডয়নপথ ও বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ফ্লাইদুবাইয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া বা নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি ছিল না।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে এই ঘটনাটি ঘটে। বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীর অধিকাংশই ছিলেন ইসরায়েলি নাগরিক। অভিযোগ অনুযায়ী, উড্ডয়নের সময় সহ-পাইলট একটি জরুরি কুঠার নিয়ে ক্যাপ্টেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান, যাতে ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে অপর পাইলট, কেবিন ক্রু এবং কয়েকজন সাহসী যাত্রীর সম্মিলিত চেষ্টায় হামলাকারীকে কাবু করা সম্ভব হয়। এরপর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে, যা একটি বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলে তাদের সকল ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটিতে যাতায়াতকারী বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোরভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে আকাশপথের নিরাপত্তা, পাইলটদের যাচাই-বাছাই এবং ককপিটের সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়াসহ তদন্তের অন্যান্য দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় উড়োজাহাজের ককপিট নিরাপত্তা, কর্মীদের যাচাই এবং আকাশপথে যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
