শিরোনাম
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড তেরখাদায় নারীকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায় ও নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার কুমিল্লায় আকিজ সিরামিকস ও অরার নতুন শোরুম উদ্বোধন শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের স্টোরে ধোঁয়ার আতঙ্ক অ্যাটর্নি জেনারেল: ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনায় আইনের কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি অস্থিরতা তৈরি চক্রান্তের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান লৌহজংয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় শুটারগান ও কার্তুজ উদ্ধার শাহজালালে পড়ে থাকা ১২ পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ নিয়ে জটিলতা নেপালে প্রদর্শনের অনুমতি পেল না আয়ুষ্মান-সারার সিনেমা শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৪ নং সুলতানাবাদ ইউনিয়নে পূজা মণ্ডল পরিদর্শন করেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মামুন
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
  • সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

    সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে এখন গভীর প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া চলা সত্ত্বেও ঢাকা কেন আগে থেকে বিষয়টি জানতে পারল না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো বন্দি তালিকায় দণ্ডিত নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম থাকলেও, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বাইরে দণ্ড সম্পর্কে কোনো তথ্য ছিল না। মিশন ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগাম বার্তা না পাওয়ার যে দাবি করা হচ্ছে, তা এখন এই ঘটনার অন্যতম প্রধান দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ কেন কাজে লাগানো গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অথচ দেশটিতে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত।

    ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ই অক্টোবর, যখন সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে সে দেশের বার্তা সংস্থা ‘সৌদি প্রেস এজেন্সি’ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি (সিঁথি) আক্তার ছিলেন। পরদিন ১৫ই অক্টোবর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশের কন্স্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিস্তারিত জানতে কূটনৈতিক পত্র পাঠায়। পরবর্তীতে ১৮ই অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। গত সোমবার জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশি কূটনীতিকরা কেন আগে বিষয়টি জানানো হয়নি, সেই প্রশ্ন তুললেও কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের দূতাবাস কিংবা কন্স্যুলেটকে কিছু জানায়নি।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, সৌদি কর্তৃপক্ষ গত ৩০শে সেপ্টেম্বর জেদ্দায় বাংলাদেশ কন্স্যুলেটে একটি বন্দি তালিকা পাঠিয়েছিল। তালিকায় নজরুলের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ ও সুইটির বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগের উল্লেখ ছিল। তবে তাদের কী সাজা হয়েছে বা মামলার অবস্থা কী, সে বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। পরিবারের ভাষ্যমতে, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে নজরুল ও সুইটি আটক হওয়ার পর নজরুলের পরিবার তার গ্রেপ্তারের খবর জানলেও মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে তারা গণমাধ্যম থেকেই জানতে পারে। তাদের দাবি, পরিবারের পক্ষ থেকে কন্স্যুলেটে কোনো আইনি সহায়তা চাওয়া হয়নি, তবে মিশনও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেনি। তার সঙ্গে সপ্তাহে একবার পরিবারের সদস্যদের কথা হতো। মামলার অবস্থা, আদালতের কার্যক্রম, দণ্ডের ধরন এবং আপিলের সুযোগ সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখাও কন্স্যুলার দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা থাকলে আইনি সহায়তা, দোভাষীর ব্যবস্থা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মতো বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া জরুরি।

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির স্বীকার করেছেন যে, তথ্য আদান-প্রদান ও কূটনৈতিক যোগাযোগে ঘাটতি ছিল। তিনি এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে হতাশাজনক হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। একটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের মিশনকে লিখিতভাবে জানানোর বিধান রয়েছে। কিন্তু এই দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সেই নিয়ম পালিত হয়েছে কিনা, তা নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা। এছাড়া, বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলায় মিশন কেন এ বিষয়ে অন্ধকারে ছিল, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। পরিবারের এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা এবং গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশির মামলা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মিশন কীভাবে অন্ধকারে থাকলো।

    কন্স্যুলেটের ১৮ই অক্টোবরের এক গোপন স্মারকলিপি থেকে জানা যায়, সৌদি আদালতে দোভাষীর ব্যবস্থা থাকলেও আসামিরা নিজেদের পছন্দের দোভাষী বেছে নিতে পারেন না। বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে বাংলাদেশিরা দোভাষী হিসেবে কাজ করেছেন বলে তথ্য থাকলেও, তাদের পরিচয় ও ভূমিকা সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি। সৌদি পক্ষ বৈঠকে দাবি করেছে, আপিল আদালতের ১৩ জন বিচারকের প্যানেল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখার পর তা কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু কেন বন্দি তালিকায় নাম থাকার পরও সাজার বিষয়টি জানানো হলো না, সেই প্রশ্নের জবাব আজও অধরা।

    উল্লেখ্য যে, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত কোনো বন্দি হস্তান্তর চুক্তি নেই। যদিও ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল-দুহাইলানের সাথে বৈঠকের পর বিচারিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি চুক্তির উদ্যোগের কথা শোনা গিয়েছিল, কিন্তু তার অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে বাংলাদেশের এমন চুক্তি থাকলেও সৌদির সাথে না থাকায় বিদেশে দণ্ডিত বাংলাদেশিদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান এই ঘটনাটি তাই আবারও দুই দেশের মধ্যকার আইনি ও কূটনৈতিক সহযোগিতার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বন্দি হস্তান্তর চুক্তি নেই বাংলাদেশের: স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সৌদি আরবের সঙ্গে বন্দি হস্তান্তর চুক্তি করেনি বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে ২০১০ সালে এবং আমিরাতের সঙ্গে ২০১৪ সালে এ চুক্তি হয়।

    আরও পড়ুন

    শাহজালালে পড়ে থাকা ১২ পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ নিয়ে জটিলতা
    বিমানমন্ত্রী: সৌদির অনুমতি পেলেই রিয়াদে আবার ফ্লাইট চালু
    প্রথম জাপান সফরে তারেক রহমান
    সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: রংপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
    শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৫০টি নতুন ট্রলি দিলো প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়
    নিরাপত্তাজনিত কারণে রিয়াদের ফ্লাইট স্থগিত, দাম্মাম রুটে প্রস্তুতির আশা
    সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান
    চলতি মাসেই সরকারি কর্মচারীদের বাড়তি বেতন, ভাতা আগের হারেই