
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ায় একটি বড় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জার্গেন ওয়েস্টারমায়ার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিমানের বহরে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
চুক্তি অনুযায়ী, এয়ারবাস সরবরাহ করবে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে চারটি এ৩৫০-৯০০ দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে এবং ছয়টি এ৩২১নিও স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার আঞ্চলিক রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বোয়িং ও এয়ারবাসের সমন্বয়ে একটি মিশ্র বহর গড়ে উঠবে, যা বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা ও চাহিদা অনুযায়ী উড়োজাহাজ ব্যবহারে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, বিমানের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় আগে থেকেই ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এই পরিকল্পনার আওতায় ৮টি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আগে সম্মতি হয়েছিল। পরবর্তীতে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ (৫টি ৭৮৭-১০ এবং ৬টি ৭৩৭-৮) যুক্ত হয়। নতুন এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ যোগ হওয়ার ফলে এখন মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলো, যেখানে ১৯টি ওয়াইডবডি ও ১৬টি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ থাকবে।
এই বিশাল বহর সম্প্রসারণের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রুট নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা এবং ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণ করা। একইসঙ্গে, নতুন উড়োজাহাজ হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি চাহিদা মেটাতে লিজের মাধ্যমে উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
