
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং, দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। অথচ তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২টি সেঞ্চুরির ১১টিই এসেছে নিজের দেশের মাটিতে। সাম্প্রতিক ডারবান টেস্টের দুই ইনিংসে ৯ ও ১১ রান করার পর আবারও সামনে এসেছে বিদেশের মাটিতে তাঁর পারফরম্যান্সের বিষয়টি। ব্যাট হাতে ট্রাভিস হেড কী করতে পারেন, সেটা সবাই জানেন। বাক্যটাতে একটু সম্পাদনা হয়তো দরকার। সর্বশেষ ডারবান টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ২০ রানে আউট হওয়ার পর পুরোনো প্রশ্নটি আবার তাই সামনে এসেছে। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের একটি ভালো ইনিংসই বদলে দিতে পারে পুরো আলোচনার সুর। প্রশ্ন হলো, সেই ইনিংসটি কি বিদেশের মাটিতেও আসবে। অথচ ম্যাচ যত এগিয়েছে, হেডের গড় তত বেড়েছে। সেটা বল মোকাবিলা করা হোক কিংবা বোলারদের কঠিন স্পেল পার করা—পাঁচ নম্বরেও বিষয়টা একই।’। আমি তাই নিজের প্রক্রিয়াতেই মনোযোগ রাখি।’।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হেডের ব্যাটিং গড় ৫১.৮৬, যা বিদেশে নেমে আসে ৩১.৬২-এ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবানের প্রথম ইনিংসে লেগ সাইডে শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপারের ক্যাচ হন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে মিড-অনের দিকে লিডিং এজ তুলে ফিরে যান সাজঘরে। দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন কন্ডিশনে এই ব্যর্থতা তাঁর সামর্থ্যের সঙ্গে যেমন বেমানান, তেমনি বিদেশের মাঠের রেকর্ড নিয়েও আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। ফলে হেডের এমন পরিসংখ্যানকে একা দাঁড় করিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না।
অবশ্য ঘরের মাঠে ভালো খেলা বা বিদেশে গড় কমে যাওয়া কেবল হেডের ক্ষেত্রেই ঘটছে না। মাইকেল হাসি, মাইকেল ক্লার্ক ও ডেভিড ওয়ার্নারের ক্যারিয়ারেও দেশের বাইরে পারফরম্যান্স গ্রাফ কিছুটা নিচে নেমেছিল। তা সত্ত্বেও হেডের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান স্বাভাবিকভাবেই পর্যালোচনার দাবি রাখে। সামনে দুটি টেস্ট বাকি থাকায় একাদশে সুযোগ পেলে তাঁর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনো রয়েছে। পরে সিরিজের বাকি অংশেও সে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে অ্যাশেজে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া।
হেডের সাম্প্রতিক ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন এসেছে তাঁর ব্যাটিং পজিশনে। দীর্ঘ দিন পাঁচ নম্বরে ব্যাট করার পর তিনি এখন ওপেনার হিসেবে থিতু হয়েছেন। ২০২৩ সালে দিল্লি টেস্টে কনকাশনে পড়া ডেভিড ওয়ার্নারের বদলি হিসেবে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমেছিলেন তিনি। এরপর অ্যাশেজের পার্থ টেস্টে রান তাড়ায় ওপেনিংয়ে নামার পর থেকেই এই পজিশনে থিতু হয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ওপেনিংয়ে উঠেই সাফল্য, তারপর ছন্দপতন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওপেনার হিসেবে তিনটি সেঞ্চুরি করে নিজের ভয়ংকর রূপ দেখিয়েছিলেন হেড। তবে এই সাফল্যের পর তাঁর সময়টা কঠিন গেছে। গত আগস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনবার বোল্ড হওয়ার পর ডারবানেও দুই ইনিংসে ব্যর্থ হলেন তিনি। রাহুল দ্রাবিড় বলছেন, কোথায় ক্যালিস আলাদা।
হেডের ইনিংসভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, ওপেনার হিসেবে টেস্টের প্রথম ইনিংসে তাঁর গড় মাত্র ২৩.৬৬। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯.৬০, তৃতীয় ইনিংসে ৬২.৮৩ এবং চতুর্থ ইনিংসে ৬০.৭৫। প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংস একসঙ্গে ধরলে ওপেনার হিসেবে তাঁর গড় যথাক্রমে ৩৫.৪৫ ও ৬২। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড বা নিউজিল্যান্ডের মতো জায়গায় নতুন বলের চ্যালেঞ্জ প্রথম ইনিংসে ব্যাটারদের জন্য কঠিন হওয়ায় হেডের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দেখা গেছে। এর পেছনে কন্ডিশনের প্রভাব থাকতে পারে।
অন্যদিকে পাঁচ নম্বরে নামলে তাঁর পরিসংখ্যান ভিন্ন কথা বলে। এই পজিশনে প্রথম ইনিংসে হেডের গড় ৫৪.৬৯, দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬.০৪, তৃতীয় ইনিংসে ২৭.৪৩ এবং চতুর্থ ইনিংসে ৪০.৫০। প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংসের গড় যথাক্রমে ৪৬.৩৬ ও ৩১। অর্থাৎ ওপেনিংয়ে পরের ইনিংসগুলোতে তিনি ভালো করলেও পাঁচ নম্বরে প্রথম ইনিংসে তাঁর রেকর্ড বেশ শক্তিশালী।
সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেড জানিয়েছিলেন, তিনি ফলাফলের চেয়ে প্রক্রিয়ায় বেশি জোর দেন। তাঁর ভাষ্যমতে, ওপেনিংয়ে অল্প সময়ের অভিজ্ঞতায় তাঁর মনে হয়েছে প্রতি ইনিংসে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সময় পাওয়া যায়। কখনো ১০ বল আবার কখনো ২০ বল নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সময় নিয়ে প্রক্রিয়া ঠিক রাখলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। হাসানকে যেভাবে বোকা বানালেন মুশফিক–মুশতাকরা।
