শিরোনাম
  • প্রচ্ছদ
  • অর্থনীতি
  • রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে
  • রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে

    দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক এবং ভঙ্গুর বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বুধবার রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই ভঙ্গুর অর্থনীতিতে নতুন করে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি এ কথা জানান। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া।

    উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ চরম সংকটে পড়েছে। অনেকে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সঞ্চয় ভেঙে ফেলছেন, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে ঋণের আশ্রয় নিচ্ছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগের অভাব এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

    দেশের ব্যাংক খাত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এই খাতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া জ্বালানিখাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে সরকার কাজ করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা গত সরকার অবহেলা করেছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কিন্তু আগের সরকার এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

    কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ জনশক্তি গড়ার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষিত বেকারত্ব কমাতে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। দক্ষ জনশক্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অতীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ধাপে ধাপে ২০ ও ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিল, বর্তমানে সেগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ২০ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’। যুব বেকারত্ব ও শিক্ষিত বেকারত্বও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া গ্যাস অনুসন্ধান ও টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অতীতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।

    জিডিপি সংক্রান্ত বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, বিভিন্ন সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিকৃত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ওপর ভিত্তি করে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    আরও পড়ুন

    তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল
    অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বহুপাক্ষিক সংস্থার ইতিবাচক সাড়ায় আশাবাদী অর্থমন্ত্রী
    তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু
    মালয়েশিয়ায় আকিজ বশির গ্রুপের ইভলভ বিয়ন্ড বিজনেস কনফারেন্স
    বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়নে চায়না এক্সিম ব্যাংককে আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর
    ন্যাশনাল ব্যাংকের মহাখালী শাখায় টাকা তোলার সুযোগ
    বিদেশি বিনিয়োগ টানতে থাইল্যান্ডের পথ অনুসরণ করবে বাংলাদেশ?
    নির্মাণ খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছি: হাসিব এম আবদুল্লাহ