শিরোনাম
গোপালগঞ্জে বাসচাপায় ভ্যানচালক নিহত: সংঘর্ষে জড়াল তিন গাড়ি চট্টগ্রামে জনসমাগমে আলোচিত গুলিবর্ষণের এক বছর: অধরা সেই শুটার কালিগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক, ঘটনাস্থল থেকে এক ব্যক্তি পলাতক শাসক নয়, সেবক হতে চান চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলী লিটন ছয়গ্রাম আলিম মাদ্রাসার নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান শ্রাবণ আমিরাতে ঘন কুয়াশায় রেড অ্যালার্ট জারি জামিন পেয়ে কারামুক্ত হলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসবিদ এ এফ এম আব্দুল জলীলের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস হারালেও নির্বাহী ক্ষমতায় সরব থাকার ছক ট্রাম্পের
  • প্রচ্ছদ
  • আইন-আদালত
  • চট্টগ্রামে জনসমাগমে আলোচিত গুলিবর্ষণের এক বছর: অধরা সেই শুটার
  • চট্টগ্রামে জনসমাগমে আলোচিত গুলিবর্ষণের এক বছর: অধরা সেই শুটার

    চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় এক বছর আগে এক নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা ঘটে। তাঁর ভাষায়, ‘এক ঢিলে দুই পাখি’ মারার মতো ঘটনা ঘটেছে।

    গত বছরের ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঘটা এই ঘটনায় পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা নিহত হন। ঘটনার সময় বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল। সেই ভিড়ের মধ্যেই পেছন থেকে এগিয়ে এসে এক যুবক বাঁ হাতে পিস্তল ঠেকিয়ে সরোয়ারকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়া সরোয়ারকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী গণসংযোগে তাঁকে গুলি করা হয়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। সরোয়ারকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল, তাঁর সময় শেষ। এ কারণে সরোয়ার সতর্কভাবে চলাফেরা করতেন। এ জন্য নির্বাচনী জনসংযোগের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানকে বেছে নেওয়া হয়।

    এই আলোচিত ঘটনার এক বছর পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো মূল শুটারকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং অন্যরা জামিনে মুক্ত। পুলিশ তদন্তে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত পেয়েছে, তবে এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সুষ্ঠু তদন্ত করে পুলিশ বের করুক।’।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সরোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ ১৫টি মামলা ছিল। তিনি এরশাদ উল্লাহর পাশে থেকে প্রচারপত্র বিলি করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভিড়ের মধ্যে এক যুবক অত্যন্ত সুনিপুণভাবে বাঁ হাতে পিস্তল ধরে সরোয়ারের ঘাড়ে গুলি করছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, হামলাকারী ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী এবং অত্যন্ত প্রশিক্ষিত। ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় শুটারের পরিচয় পাওয়া পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভালোভাবে প্রশিক্ষিত কেউ এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সরোয়ার হত্যা মামলায় গত ২৮ অক্টোবর আদালত তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

    নিহত সরোয়ারের বাবা আবদুল কাদের জানান, মৃত্যুর তিন দিন আগে থেকেই ‘সন্ত্রাসী’ মো. রায়হান তাঁর ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী, তার সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ এবং মো. রায়হান সরোয়ারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন। ঘটনার পর সরোয়ারের বাবা বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় যে মামলা করেন, তাতে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়। প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে সাজ্জাদ, রায়হান ও বোরহান এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। গত ২৯ আগস্ট যশোর হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    তদন্তের বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও মূল শুটারের পরিচয় এখনো মেলেনি। তবে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের ধারণা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে বড় সাজ্জাদের সঙ্গে সরোয়ারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ২০১৬ সালের দিকে সরোয়ার নিজস্ব বলয় তৈরির চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। এর আগেও গত বছরের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় সরোয়ারের ওপর হামলা হয়েছিল, যেখানে অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও দুজন নিহত হয়েছিলেন। পরে গুরু-শিষ্যের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর পর থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুজনের বিরোধ চলছিল।

    নিহতের ছোট ভাই আজিজ উদ্দিনের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে।

    তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট মহলের ইন্ধনে এবং সাজ্জাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এমন রাজনৈতিক নেতাদের প্ররোচনায় এটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।

    তবে তিনি মামলার এজাহারে কারও নাম উল্লেখ না করার বিষয়ে জানান যে, ঘটনার পর পর পরিস্থিতি বুঝতে দেরি হওয়ায় এমনটা হয়েছে।

    পাশাপাশি, প্রকৃত অপরাধীদের বাইরে রেখে নিরপরাধ অনেককে ধরার অভিযোগও করেছেন তিনি।

    তবে ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং মামলার স্বচ্ছ তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

    ঘটনার সময় আহত হওয়া বর্তমান সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িত প্রকৃত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করা জরুরি। নিজের চোখের সামনে জনবহুল এলাকায় ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এবং শুটারকে গ্রেপ্তার না করতে পারার বিষয়টি মামলার বাদী আবদুল কাদেরকে গভীরভাবে হতাশ করেছে। তিনি আজও সেই বাঁহাতি শুটারের বিচার দেখার আশায় আছেন। তিনি বলেন, ‘নিজের চোখের সামনে লোকজনের ভিড়ে যেভাবে ছেলেকে গুলি করে মেরেছে, তা কিছুতেই ভুলতে পারছি না।

    আরও পড়ুন

    তাহসিফ সাউরি মৃত্যু: দীপ ও তরুণীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ
    নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ: বাক্‌স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট
    বিমানবন্দরে হট্টগোলের মামলায় জামিন পেলেন সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান
    বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত সুপ্রিম কোর্ট ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ
    বিমানবন্দর কাণ্ড: জামিন পেলেন না মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান
    সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকি: এনায়েতুল্লাহ আব্বাসিকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম
    ঈশ্বরগঞ্জে অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ২
    ভোটের দুদিন আগে আদালতে আটকে গেল বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন